গত বছরের তুলনায় এ বার পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি হতে পারে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের থেকে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে পঞ্চায়েত দফতরকে। পঞ্চায়েত দফতরের আধিকারিকদের জানানো হয়েছে, জুলাইয়ে বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছরে এই সময়ে মৃত্যুর এমন ঘটনা ঘটেনি। এই পরিস্থিতিতে আশঙ্কা, এ বছর ডেঙ্গি আরও জোরালো ভাবে থাবা বসাতে পারে।

এই উদ্বেগের মধ্যেই মোকাবিলার সব রকম প্রস্তুতি এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এক জন শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক। গত বছর থেকেই ডেঙ্গি মোকাবিলার বিষয়টি পঞ্চায়েত দফতরের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা। পঞ্চায়েত দফতরের ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতরের ওই আশঙ্কার পরেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়েছেন তাঁরা। যেমন ১৫ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় চলবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। নর্দমা থেকে শুরু করে অপরিচ্ছন্ন এলাকা ও জলাশয়, বাজার, ধর্মস্থান, স্কুল কলেজ সরকারি দফতরে সাফাইয়ের কাজ হবে। ডেঙ্গি আটকানোর জন্য কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে— তা জানাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার, স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে অনুষ্ঠান, গ্রাম সংসদগুলিতেও প্রচারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া, হুগলিতে ডেঙ্গির প্রকোপের সম্ভাবনা বেশি বলে চিহ্নিত হয়েছে। মশাবাহী রোগ মোকাবিলায় এই জেলাগুলির জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। এখানে জ্বরের উপর নজরদারি ও পরীক্ষানিরীক্ষার তথ্য দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।
পঞ্চায়েত দফতর তার ভিত্তিতেই ডেঙ্গি প্রবণ এলাকা গুলিতে মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। নজরদারির জন্য বাড়ানো হয়েছে সমীক্ষক
দলের সংখ্যা।