সরকারি হাসপাতালে একটি বিশেষ সংস্থার সরবরাহ করা পেসমেকার নিয়ে উঠল প্রশ্ন।

নিজেকে রাজ্যের একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৮ বছর ধরে চাকুরিরত কার্ডিওলজিস্ট হিসাবে পরিচয় (নাম গোপন রেখে) দিয়ে গত ১৮ জুন এক জন একটি চিঠি দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কমিশনার এবং এসএসকেএম হাসপাতালের অধ্যক্ষের কাছে। সেখানে তিনি একটি পেসমেকার নির্মাণকারী সংস্থার উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ২০১৫-র নভেম্বর থেকে ২০১৬-র জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে ওই সংস্থা পেসমেকার সরবরাহ করেছিল। একাধিক পেসমেকার রোগীর দেহে লাগানোর কিছু দিন পর খারাপ হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় বার অস্ত্রোপচার করে তা লাগাতে হয়।

পত্রলেখক সেই  ৮-৯ মাসে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পেসমেকারের প্রথম ‘ইমপ্ল্যান্ট’ ব্যর্থ হওয়ার  ৬১টি ঘটনার তালিকাও পাঠিয়েছেন। তাতে হাসপাতালের নাম, রোগী ও চিকিৎসকের নাম, পেসমেকারের মডেল নম্বর থেকে শুরু করে প্রথম ও দ্বিতীয় ইমপ্ল্যান্টের তারিখ—সবই রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ৬১টির মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রথম ‘ইমপ্ল্যান্টের’ ৬ মাসের মধ্যে পেসমেকার সম্পূর্ণ বিকল হয়েছিল। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, সেই সময় সংস্থাটির পেসমেকারের অনিয়মিত সরবরাহ নিয়েও তাঁদের যথেষ্ট ভুগতে হয়েছিল। নতুন করে দরপত্র ডাকার সময় বিষয়টি স্বাস্থ্য ভবনের মনে রাখা উচিত বলে তিনি অনুরোধ করেছেন। 

প্রসঙ্গত, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার নীতি যখন স্থির হল, তখন নতুন করে দরপত্র ডাকার আগের কয়েক মাস এই সংস্থাটিকে পেসমেকার সরবরাহ করতে বলা হয়েছিল। যে হেতু সংস্থাটি বিপিএল তালিকাভুক্ত রোগীদের পেসমেকার সরবরাহ আগে থেকেই করত।

এখন এই চিঠি চিন্তায় ফেলেছে স্বাস্থ্যকর্তাদের। প্রথমত, চিঠির সঙ্গে দেওয়া তথ্য প্রাথমিক ভাবে যাচাই করে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যকর্তারা খোঁজখবর নিয়ে দেখেছেন, ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে এবং ওই বছরই ৯ জুলাই ও ১১ জুলাই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ওই সংস্থার পেসমেকারের অনিয়মিত সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তৃতীয়ত, কিছু ঘাটতির কারণে ২০১৬ সালে সরকারি দরপত্রে ওই সংস্থা অংশ নিতে পারেনি। তখন তারা আদালতে যায়। কোর্টের নির্দেশে এখন আর তাদের অংশ নিতে বাধা নেই। চলতি বছরে আর কিছু দিনের মধ্যেই পেসমেকার ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনার জন্য স্বাস্থ্য ভবনের নতুন দরপত্র ডাকার কথা। সে ক্ষেত্রে ওই সংস্থা যদি দরপত্রে অংশ নেয় এবং সবচেয়ে কম দামের কোটেশন দেয়, তা হলে সেই পেসমেকার কেনা উচিত হবে কি না, তা নিয়ে দোটানায় পড়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

যদিও ওই সংস্থার তরফে বিপ্রদাস ভৌমিকের অভিযোগ, ‘‘পেসমেকারে প্রাথমিক ভাবে সমস্যা দেখা দিলে আমাদের খবর দেওয়া হত না। জানানো হত সেটা পুরোপুরি খারাপ হওয়ার পরে। কারণ, অনেককে কমিশন দিয়ে খুশি রাখার মতো টাকা আমাদের নেই। কিছু বহুজাতিক সংস্থার হাত রয়েছে এর পিছনে।’’ স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী অবশ্য বলেছেন, ‘‘চিঠি ও নথি পেয়েছি। সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আলোচনাও চলছে।’’