• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

১ লক্ষ ছাড়াল রাজ্যের মোট আক্রান্ত, কমছে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা

Corona
গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

রাজ্যে প্রথম করোনা রোগী ধরা পড়েছিল ১৮ মার্চ। তার প্রায় পাঁচ মাসের মাথায় পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লক্ষ পেরিয়ে গেল মঙ্গলবার। এ দিন সন্ধ্যায় প্রকাশিত রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ২ হাজার ৯৩১ জন। তার জেরে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১ লক্ষ ১ হাজার ৩৯০। সোমবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৯০১ জন।

রাজ্যে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা অবশ্য বেশ আশাপ্রদ। এখনও পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৩৯৫ জন করোনা আক্রান্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়েছেন। তার মধ্যে এ দিন ছাড়া পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৭ জন। এই মুহূর্তে রাজ্যে সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছেন ২৫ হাজার ৮৪৬ জন। সোমবার তা ছিল ২৬ হাজার ৩১ জন। এ দিনের বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে সুস্থতার হার ৭২.৩৯ শতাংশ।

সোমবার রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৪৯ জনের। এ দিনও ৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তার মধ্যে কলকাতাতেই মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। উত্তর ২৪ পরগনায় এ দিন মারা গিয়েছেন ৯ জন। ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে হাওড়ায়। হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মারা গিয়েছেন ৩ জন করে।

(গ্রাফের উপর হোভার বা টাচ করলে প্রত্যেক দিনের পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন। চলন্ত গড় কী এবং কেন তা লেখার শেষে আলাদা করে বলা হয়েছে।)

আরও পড়ুন: করোনা যুদ্ধে টাকা চাই, মোদীর কাছে ফের বকেয়া মেটানোর দাবি মমতার

প্রতি দিন যত জন রোগীর কোভিড-টেস্ট করা হচ্ছে এবং তার মধ্যে প্রতি ১০০ জনে যত সংখ্যক রোগীর কোভিড-রিপোর্ট পজিটিভ আসছে, তাকে পজিটিভিটি রেট বা সংক্রমণের হার বলা হয়। মঙ্গলবার প্রকাশিত বুলেটিনে রাজ্যে সংক্রমণের হার ১০.৮৫ শতাংশ। গত এক মাসে এই প্রথম সংক্রমণের হার এত নীচে নামল। এর আগে, ৯ জুলাই রাজ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে কম ছিল, ১০.০৭ শতাংশ।

করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশি করে পরীক্ষায় জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১১ লক্ষ ৫৯ হাজার ২১১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা হয়েছে ২৭ হাজার ১৫ জনের। তার পরেও সংক্রমণের হার গতকালের চেয়ে কম হওয়ায় স্বস্তিতে স্বাস্থ্য দফতর।

আরও পড়ুন: প্রবল শ্বাসকষ্ট নিয়ে বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ

রাজ্যে কোভিড সংক্রমণ এবং মৃত্যুর নিরিখে শুরু থেকেই শীর্ষে রয়েছে কলকাতা। এ দিনও সেই ধারাই বজায় রয়েছে। এ দিন কলকাতায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭১১ জন। এর পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪৩ জন। এ ছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২২০, হুগলিতে ১১৫, হাওড়ায় ১৫৬, পশ্চিম বর্ধমানে ৬০, পূর্ব বর্ধমানে ৬৯, পূর্ব মেদিনীপুরে ১১২, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৯৯, বাঁকুড়ায় ৮৯, মুর্শিদাবাদে ৬২, নদিয়ায় ১২৭ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

উত্তরবঙ্গেও ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। এ দিন আলিপুরদুয়ারে ৬০, কোচবিহারে ৩৯, দার্জিলিঙে ৪০, জলপাইগুড়িতে ৫৯, উত্তর দিনাজপুরে ৩০, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৪৬ এবং মালদহে ১১৭ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন।

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ

 

(চলন্ত গড় বা মুভিং অ্যাভারেজ কী: একটি নির্দিষ্ট দিনে পাঁচ দিনের চলন্ত গড় হল— সেই দিনের সংখ্যা, তার আগের দু’দিনের সংখ্যা এবং তার পরের দু’দিনের সংখ্যার গড়। উদাহরণ হিসেবে— দৈনিক নতুন করোনা সংক্রমণের লেখচিত্রে ১৮ মে-র তথ্য দেখা যেতে পারে। সে দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ছিল ৪৯৫৬। কিন্তু  সে দিন নতুন আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৫২৬৯। তার আগের দু’দিন ছিল ৩৯৭০ এবং ৪৯৮৭। পরের দুদিনের সংখ্যা ছিল ৪৯৪৩ এবং ৫৬১১। ১৬ থেকে ২০ মে, এই পাঁচ দিনের গড় হল ৪৯৫৬, যা ১৮ মে-র চলন্ত গড়। ঠিক একই ভাবে ১৯ মে-র চলন্ত গড় হল ১৭ থেকে ২১ মে-র আক্রান্তের সংখ্যার গড়। পরিসংখ্যানবিদ্যায় দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ সহজ ভাবে বোঝার জন্য এবং স্বল্পমেয়াদি বড় বিচ্যুতি এড়াতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়)

(জরুরি ঘোষণা: কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই হেল্পলাইন নম্বরগুলিতে ফোন করলে অ্যাম্বুল্যান্স বা টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত পরিষেবা নিয়ে সহায়তা মিলবে। পাশাপাশি থাকছে একটি সার্বিক হেল্পলাইন নম্বরও।

• সার্বিক হেল্পলাইন নম্বর: ১৮০০ ৩১৩ ৪৪৪ ২২২
• টেলিমেডিসিন সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৩৫৭৬০০১
• কোভিড-১৯ আক্রান্তদের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংক্রান্ত হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-৪০৯০২৯২৯)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন