ভোটার হতে দেরি, বিয়ে সারা 
কম বয়সে মেয়েটির বিয়ে  হয়ে গিয়েছে দেখে খানিকটা উদ্বিগ্ন দেখায় দেখায় প্রার্থীকে। প্রার্থী নিজেও যে মেয়ে! নাম, শতাব্দী রায়।
Satabdi

শতাব্দীর প্রচার। খয়রাশোলে। ছবি: দয়াল সেনগুপ্ত

গাড়িতে চেপে প্রচারের সময় মেয়েটির দিকে চোখ গেল প্রার্থীর। জানতে চাইলেন, ‘‘তোর বিয়ে হয়ে গিয়েছে? কত বয়স তোর?’’ 

গ্রামে ভোট প্রচারে আসা তারকা প্রার্থীর প্রশ্নের সামনে শুধুই একগাল হেসেছে কিশোরী। কিন্তু, কম বয়সে মেয়েটির বিয়ে  হয়ে গিয়েছে দেখে খানিকটা উদ্বিগ্ন দেখায় দেখায় প্রার্থীকে। প্রার্থী নিজেও যে মেয়ে! নাম, শতাব্দী রায়।

বুধবার খয়রাশোলে চলছিল শতাব্দীর  প্রচার। খয়রাশোলের পেরুয়া, রূপসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রূপসপুর, সিঙ্গি, পরাতিয়া, বারাবন গ্রামগুলোর রাস্তার দু’পাশে অপেক্ষায় থাকা মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করে সবে কড়িধ্যা ঢুকেছে বীরভূমের তৃণমূল প্রার্থীর গাড়ি। ঠিক তখনই রাস্তার পাশে মাথায় সিঁদুর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোরীকে দেখে  থেমে যায় শতাব্দীর গাড়ি। গাড়ি থকেই প্রশ্নটা করেছিলেন তিনি। পরে শতাব্দী বলেছেন, ‘‘মঙ্গলবারও প্রচারে গিয়ে দেখেছিলাম, এক কিশোরী কোলে ছ’মাসের শিশু নিয়ে  দাঁড়িয়ে। জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বয়স কত। উত্তর দিয়েছিল ১৬। উদ্বেগ আমার এই জন্যই।’’ তাঁর মতে, এত প্রচার বাল্য বিবাহের কুফল  নিয়ে। তার পরও ছোট ছোট মেয়েদের বিয়ে দিয়ে বাবা-মায়েরা ভাবছেন, বোঝা নামল। শতাব্দীর কথায়, ‘‘কিন্তু, তাঁরা একবারও ভাবলেন না, এতটুকু বয়সে বিয়ের ফলে মেয়ের শরীরের কী হবে। বাচ্চা হওয়া কতটা সমস্যার। খারাপ লাগে। আমি ওকে বলেছিলাম, চোর ভোটের কার্ড হয়নি, অথচ বিয়ে হয়ে গেল!’’ 

 বীরভূম জেলায় প্রায় দিনই নাবালিকা বিয়ে আটকানোর ঘটনা ঘটছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ১৮-র কমবয়সি মেয়েদের বিয়ে আটকাতে ছুটতে হচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন এবং চাইল্ড লাইনের কর্মীদের। কম বয়সে মা হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দফতরও। এই অবস্থায় শতাব্দীর প্রচারসঙ্গীরা বলছেন, ‘‘তারা (নাবালিকা) নাই বা হল ভোটার। কিন্তু ভোট প্রচারে এসে দিদির যে চোখে পড়েছে, সেটাই ভাল দিক। দিদি বলায় গ্রামের মানুষ কিছুটা হলেও সচেতন হবেন।’’ 

শুধু শতাব্দী নন, এখনও ভোটার হয়নি, এমন কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে বুধবার জমিয়ে গল্প করতে দেখা গেল শতাব্দীর প্রতিপক্ষ, বীরভূমের বিজেপি প্রার্থী দুধকুমার মণ্ডলকেও। এ দিন তিনিও খয়রাশোলেই প্রচারে ছিলেন। দুই প্রার্থীই প্রচুর গ্রাম ঘুরেছেন।  ইতিবাচক দিক, আগের দিন জলকষ্ট নিয়ে শতাব্দীর কাছে যেমন অনুযোগ বা দাবি উঠে এসেছিল, সেটা এ দিন আর তাঁকে শুনতে হয়নি। দুই প্রার্থীই বলছেন, খুব ভাল প্রচার হয়েছে।  

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত