হাজারটা প্রকল্প থেকে যারা ‘কাটমানি’ তুলবে, এমন লোকজনকে তিনি আর দলে চান না। বদলে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন পাড়ার ‘বখাটে’ ছেলেদের। যারা মন দিয়ে তৃণমূল করবে। এবং তিনিও সরকারের নানা কাজে সুযোগ মতো সেই ছেলেদের জায়গা করে দেবেন।

লোকসভা ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পরে এ ভাবেই তৃণমূলে শুদ্ধকরণের অভিযান চালাতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘আবর্জনা বেরিয়ে যাক। দলটা পরিষ্কার হবে, পবিত্র হবে। নতুন করে শুরু করছি আমরা। এ ভাবেই এগোব।’’

রাজ্যে লোকসভা ভোটে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তৃণমূল, ততটাই উত্থান হয়েছে বিজেপির। তার পর থেকেই নানা প্রান্তে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক লেগেছে। মমতার মতে, তৃণমূলে থেকে যাঁরা অন্যায় করতে গিয়ে ধরা পড়ছিলেন, তাঁরাই এখন জার্সি বদল করছেন। এই অংশ দল ছেড়ে চলে গেলে তৃণমূলেরই ভাল হবে বলে মনে করছেন তিনি। এলাকার গরিব, বখাটে ছেলেদের এ বার তৃণমূলের নতুন সৈনিক করে তুলে ভবিষ্যতের লড়াইয়ে নামতে চান মমতা। কাঁচরাপড়ায় দলের কর্মিসভায় শুক্রবার সেই মনোভাবই পরিষ্কার করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র এ বার হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। সেই লোকসভার অন্তগর্ত বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ও তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। মুকুল রায় ও তাঁর পুত্র শুভ্রাংশুর এলাকা কাঁচরাপাড়ার মিলন নগরে এ দিন কর্মিসভার মঞ্চ থেকে মমতা বলেছেন, ‘‘যারা চুরি করবে, মানুষের প্রকল্প থেকে কাটমানি নেবে, তাদের ধরতে গেলে চলে যাবে। ডাকাতি করবে আর ধরা পড়লে অন্য দলে যাবে। আমি বলছি, যার যার যাওয়ার আছে, দয়া করে চলে যান! সাত দিন সময় দিলাম। আমার দলটা শুদ্ধ হবে, পবিত্র হবে।’’ মমতা বোঝাতে চেয়েছেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তৃণমূল দলটা তৈরি করেছিলেন। প্রথম দিকে তাঁর ‘ভয়’ করত, দুষ্টু গরুতে না ছোট গাছ খেয়ে নেয়! এখন সেই তৃণমূলই ‘মহীরুহ’। যে দল ‘মানুষের দল’ হয়ে উঠেছে, তাতে নানা রকমের লোক থাকে। তার মধ্যে ‘অসৎ’ অংশ এখন বেরিয়ে গেলে তৃণমূলেরই মঙ্গল।

  নতুন করে দল সাজানোর সূত্রেই তৃণমূল নেত্রীর আরও মন্তব্য, ‘‘আমি চাই, বখাটে ছেলেরা আসুক। পাড়ায় পাড়ায় যারা আড্ডা মারে, তারা চলে আসুক। স্থানীয় নেতাদের বলব, গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের বায়োডাটা তৈরি করে আমাকে পাঠাবে। আমি এদের কোথাও না কোথাও ঢুকিয়ে দেব।’’