Advertisement
E-Paper

রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হবে, কত দফায় স্থির করা হবে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি দেখে, কী কী জানিয়ে গেলেন জ্ঞানেশ

জ্ঞানেশ জানিয়েছেন, এ বার পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা বুথ থাকবে। কোনও বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার থাকবেন না। স্বচ্ছতার খাতিরে প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ১৬:৪৭
সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার কলকাতায়।

সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার কলকাতায়। ছবি: পিটিআই।

রাজ্যে হিংসামুক্ত ভোটের কথা বললেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভোট হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ। কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।” এই সূত্রেই তিনি জানিয়েছেন, ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া যাবে না। এই সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বৈধ কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না।

জ্ঞানেশ জানিয়েছেন, এ বার পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা বুথ থাকবে। কোনও বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার থাকবেন না। স্বচ্ছতার খাতিরে প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। জ্ঞানেশ এ-ও জানিয়েছেন, প্রতিটি বুথে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র, পানীয় জলের বন্দোবস্ত এবং বাইরে মোবাইল ফোন রাখার জায়গা থাকবে। এসআইআর, তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি, ভোটের সম্ভাব্য দফা নিয়েও বক্তব্য জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ ছাড়াও ছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিংহ সান্ধু। ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালও।

এসআইআর

জ্ঞানেশ জানিয়েছেন, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করতেই ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এর লক্ষ্য হল বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া।” অভিযোগ উঠেছিল যে, তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টি কেবল পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ জানান, যে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে যে ১২টি জায়গায় এসআইআর হয়েছে, তার প্রত্যেকটিতেই এই অসঙ্গতির বিষয়টি রয়েছে। জ্ঞানেশ জানান, এনুমারেশন ফর্ম পূরণের পর দেখা গিয়েছে, ৪-৫ শতাংশ ভোটার নিজেদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের নাম ‘ম্যাপ’ করাতে পারেননি। তাঁদের কমিশন ‘আনম্যাপড’ বলেছে। প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ নিজেদের ‘ম্যাপ’ করালেও কিছু ত্রুটি থেকে গিয়েছে। এই তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়।

বিবেচনাধীনেরা ভোট দিতে পারবেন

বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ ভোটার ভোট দিতে পারবেন কি না, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি জ্ঞানেশ। তিনি জানিয়েছেন, বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখার কাজ করছেন আদালত নিযুক্ত বিচারক এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছেন, ১০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৫০ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে কী হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। জ্ঞানেশ বলেছেন, “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অতিরিক্ত (ভোটার) তালিকা প্রকাশ করা হোক।”

কত দফায় ভোট

পশ্চিমবঙ্গে কত দফায় ভোট হবে, তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জ্ঞানেশ। তিনি বলেন, “কত দফায় ভোট হবে, তা নিয়ে দলগুলি পরামর্শ দিয়েছে। বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দিল্লি ফিরে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য নয়

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে আক্রমণ শানাচ্ছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। সকলের বাক্‌স্বাধীনতা আছে। রাজনৈতিক দল কিছু বলতেই পারে। তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা রাজনৈতিক মন্তব্যের উত্তর দিই না।”

ইভিএম পরীক্ষা

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মঙ্গলবার একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন জ্ঞানেশ। তিনি বলেন, “ভিভিপ্যাটের সঙ্গে ইভিএমের তথ্যে গরমিল দেখা গেলে, পুরোটাই পরীক্ষা করে দেখা হবে। আর তা কাউন্টিং এজেন্টের সামনেই করা হবে।” নির্বাচনের দিন দু’ঘণ্টা অন্তর কমিশনের অ্যাপ এবং সাইটে ভোটের হার প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্ঞানেশ। কোনও প্রার্থী চাইলে নির্বাচনের পর সাত দিনের মধ্যে ইভিএম পরীক্ষা করানো যাবে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কমিশন বদ্ধপরিকর। কোনও রকম কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিককে একমাত্র কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করতে হবে। কোনও রাজনৈতিক দল কিংবা নেতার নির্দেশে কাজ করলে ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও বিরুদ্ধে যদি ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে, তা হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে কমিশন।

ECI Gyanesh Kumar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy