নভেম্বরের গোড়ায় উত্তরবঙ্গ সফরের সময়ে জলপাইগুড়ির গরুমারা জঙ্গলের টিলাবাড়ি পর্যটন কেন্দ্রে রাত কাটান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরদিন তিনি প্রশাসনিক বৈঠকে অভিযোগ করেন, রাতভর চার বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। এই ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার দুই কর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়। বদলি করা হয় জলপাইগুড়ির রিজিওনাল ম্যানেজারকেও। প্রশাসন সূত্রের খবর, শুক্রবার ওই দুই কর্তার সাসপেনশন তুলে নিয়ে একই পদমর্যাদায় কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে তাঁদের। তবে মালবাজারে নয়, শিলিগুড়ি জোনে। 

সে রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরদিন জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘‘আমি রয়েছি, তার পরেও চার বার বিদ্যুৎ চলে গেল! তা হলে সাধারণ মানুষের কী হাল হয়!’’ যাঁরা নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরা কোনও কাজ করছেন না বলে অভিযোগ করে পদক্ষেপ করার কথা জানান তিনি। বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত গাফিলতি ও ইউনিয়নবাজির অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও কোনও মহল থেকে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার পক্ষে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট বিপজ্জনক। 

পরে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিদ্যুৎবাহী তারে পাখি বসার ফলে এই বিভ্রাট। একই সঙ্গে ওই পর্যটন কেন্দ্রে পরিকাঠামোগত কিছু খামতিও ধরা পড়ে। বাংলোর ইনর্ভাটার এবং জেনারেটর কেন চলল না, তা নিয়ে পৃথক তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যেই বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার মালবাজারের ডিভিশনাল ম্যানেজার এবং সহকারী বাস্তুকারকে সাসপেন্ড করা হয়। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য কলকাতা থেকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার এক কর্তাকে উত্তরবঙ্গে পাঠানোও হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, গত সপ্তাহেই সেই তদন্ত রিপোর্ট বিদ্যুৎ ভবনে জমা পড়ে। তা জানানো হয় নবান্নের শীর্ষ কর্তাদেরও। তার পরেই সাসপেনশন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত। 

বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার জলপাইগুড়ির আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, দুই কর্তাকে তড়িঘড়ি সাসপেন্ড না করে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পরে পদক্ষেপ করলেই ভাল হত।