কোনও একটি ঘরানা নয়, অশ্বিন সারাভাননের ছবি ‘গেম ওভার’ ঘোরাফেরা করেছে ভূতুড়ে ও মনস্তাত্ত্বিক জ়ঁরের মধ্য দিয়ে। সঙ্গে রয়েছে প্যারানর্মাল কার্যকলাপও। পরতে পরতে জড়িয়ে গেমিংয়ের মোড়ক। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও পরিচালক ঘেঁটে ফেলেননি।

শহরের আনাচেকানাচে প্রায়ই মিলছে মেয়েদের অদ্ভুত মৃতদেহ। মুণ্ডচ্ছেদ করে বাকি শরীর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে! এক মেয়ে ডুবে থাকে গেমিংয়ের মধ্যে। তাকে তাড়া করে বেড়ায় খান তিনেক গথিক আকারের রোবট। তার শরীরে আঁকা ট্যাটুতে অদৃশ্য কে যেন সুচ বিঁধিয়ে চলেছে দিনের পর দিন। এই সব ক’টা সূত্র কি আদৌ মিলবে? গল্প এই নিয়েই।

শহরের প্রান্তে একটি মেয়ে তার নিজের বাড়িতেই নজরবন্দি। অদৃশ্য কেউ এগোচ্ছে তার দিকে। বাথরুমে শাওয়ার কার্টেনের পিছনে স্নান করার সময়েও ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে অদৃশ্য উপস্থিতি। পর্দায় নারী শরীর কেমন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। মনে পড়ে যায় অ্যালফ্রেড হিচককের ‘সাইকো’। ছবি শুরু হয়েছে এই ভাবেই। আর তৈরি হয়ে গিয়েছে প্রত্যাশা। অশ্বিনের লেখায় ও পরিচালনায় নেই জোর করে ভয় দেখানোর প্রয়াস। ছবি যত এগিয়েছে পেঁয়াজের খোলসের মতো খুলেছে পরত। বা গেমিংয়ের ভাষায় লেভেলের পর লেভেল পেরোতেই শ্বাস রুদ্ধ হয়েছে। মনে হয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রেক্ষাগৃহের ঠান্ডা যেন কেউ বাড়িয়ে দিচ্ছে বারবার।

গেম ওভার
পরিচালনা: অশ্বিন সারাভানন
অভিনয়: তাপসী, বিনোদিনী 
৬/১০

এ ছবি তাপসী পান্নুর একার। স্বপ্নার চরিত্রে তাপসী ফের প্রমাণ করেছেন তাঁর দক্ষতা। অসহায়বোধ, যন্ত্রণা, আতঙ্ক, দে জ়াঁ ভু না কি ভ্রম... তিনি সাবলীল। যোগ্য সঙ্গত কলাম্মার চরিত্রে বিনোদিনী বিদ্যানাথনের। চিত্রনাট্য, ক্যামেরা ছাড়াও বলতেই হয় ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরের কথা। মেরুদণ্ড সোজা করে দেওয়া স্কোর যথাযথ তারে বাঁধা।

গেমিংয়ে চাইলেই রিস্টার্ট বাটন ক্লিক করে শুরু করা যায় নতুন ভাবে। সে নিয়ম কি বাস্তব জীবনেও বর্তায়? পুরনোকে ফিরিয়ে না আনা গেলেও সামনের সুযোগকে হাতিয়ার করে ঘুরে দাঁড়ানো যায় সব সময়েই। যদি এই আকালেও রোশনাইয়ে ফেরার বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায় ঘরের কোনায় কোনায়, মন্দ কী?