করোনাকালে শুধু ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নয়, অনেকেই পরিচিত হয়েছেন ‘ওয়ার্ক ফ্রম মাউন্টেন’ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম সি’-এর সঙ্গেও। এই কর্মসংস্কৃতিতে শুধু অফিসে বসে কাজ নয় বরং পাহাড় কিংবা পছন্দের কোনও স্থানে বসেও অফিস করা যায়।
এবার সেই পরিধি আরও বাড়ল। স্পেন, তাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা-সহ বিশ্বের প্রায় ৮টি দেশ ভারতীয়দের জন্য ব্যবস্থা করেছে ‘ডিজিটাল নোম্যাডস ভিসা’, যার সাহায্যে ভারতীয়েরা বিদেশে মাসের পর মাস থেকে অফিসের কাজ করতে পারবেন। ভ্রমণের শখও পূরণ হবে এতে। কর্মী যে দেশের ভিসা পাচ্ছেন, তাঁকে যে সেই দেশের কোম্পানিতেই চাকরি করতে হবে এমন নয়, বরং এক দেশের কোনও কোম্পানির কর্মী হয়েও, অন্য দেশ থেকে কাজ করা যাবে। তবে সেই কাজ করতে হবে শুধুই অনলাইনে।স্পেন, পর্তুগাল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাইল্যান্ড, কোস্টারিকা-সহ ৮টি দেশ ভারতীয়দের এমন সুবিধা দিচ্ছে।তবে এমন ভিসার ছাড়পত্র নিয়ে উৎসাহী আরও অন্তত ৫০টি দেশ।
বিদেশ ভ্রমণে গেলে এতদিন ৩০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসাই মিলত। ‘ডিজিটাল নোম্যাডস ভিসা’ এই সুযোগকে প্রশস্ত করেছে। এই ভিসার জোরে ভারতীয়রা নির্দিষ্ট দেশের অ্যাপার্টমেন্ট বা সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টে থাকার, ভাড়া নেওয়ার ছাড়পত্র পাবেন। মিলবে আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা। তা ছাড়া, সেই দেশে থাকার সময়ের মেয়াদও বাড়বে অনেকটাই।
কারা লাভবান হবেন?
মূলত যাঁরা ফ্রিল্যান্সিং করেন এবং কাজের পাশাপাশি দেশ-বিদেশ ঘুরতে চান, তাঁদের জন্যই এই ভিসা খুবই সুবিধাজনক। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বিদেশ যেতে হলে তার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। তা ছাড়া, অর্থচিন্তাও করতে হয়। তবে এই ভিসা সুযোগ দিচ্ছে, যাতে বিদেশিরা কাজ এবং ঘোরা দুই-ই একসঙ্গে চালিয়ে যেতে পারেন।তার ফলেই আগামী দিনে পর্যটনপ্রিয় মানুষের জন্য জনপ্রিয় হতে চলেছে ‘ডিজিটাল নোম্যাডস ভিসা’। বিশ্বের একাধিক দেশ এমনই সুযোগ দিচ্ছে ভারতীয়দের। ধরা যাক, কেউ আমেরিকান কোনও কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি এই ভিসার দৌলতে স্পেনে থেকে একজন ভারতীয় হয়েও আমেরিকান কোম্পানিতে চাকরি চালিয়ে যেতে পারবেন তাও বছরের পর বছর থেকে। কোনও কোনও দেশ আবার এই ভিসার মাধ্যমে সেই দেশে নির্দিষ্ট কিছু কাজের সুযোগও খুলে দিচ্ছে।এতে লাভবান হবে ভিসা প্রদানকারী দেশগুলিও। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও এতে প্রশস্ত হবে, পর্যটন শিল্পেরও প্রসার হবে। জেনে নেওয়া যাক পাঁচটি এমন দেশে ভিসা পাওয়ার নিয়ম ও সুবিধা।
কোন দেশের কী নিয়ম
স্পেন: বিদেশে থেকে যাঁরা সাময়িক ভাবে কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য স্পেন হল বিশ্বের পয়লা নম্বর গন্তব্য। নেপথ্যে রয়েছে তাদের ‘স্টার্টআপ অ্যাক্ট’। এই আইন অনুযায়ী, ভিসা প্রাপকরা ৩ বছর সেই দেশে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদী।তবে এই ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীর মাসিক আয় হতে হবে কম করে ২.৬ লক্ষ টাকা।
পর্তুগাল: ভারতীয়দের এমন ভিসায় যাওয়ার পথ খোলা রাখছে পর্তুগালও। সে দেশের ভিসার নাম পর্তুগাল ডি৮ রিমোট ওয়ার্ক ভিসা। মূলত যাঁরা ইউরোপের দেশে থাকতে চান বা ভবিষ্যতে সেই দেশের নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য ভিসাটি সুবিধাজনক। তবে ভিসা পেতে গেলে আবেদনকারীক মাসিক উপার্জন কম করে হতে হবে ৩.৩ লক্ষ টাকা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট অর্থও থাকতে হবে। এর মাধ্যমে এই দেশে থাকার সুবিধা মিলবে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি: মাসে ২.৯ লক্ষ টাকা আয় হলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এমন ভিসার আবেদন করা যায়। কাজ করা যাবে দুবাই শহরে বসে। সবচেয়ে সুবিধা হল, আয়ের অঙ্ক নির্দিষ্ট হলেও, যে হেতু কর্মক্ষেত্র দেশের বাইরে তাই সুবিধাভোগীকে এই দেশে থাকলেও আয়কর দিতে হবে না।
তাইল্যান্ড: ডেস্টিনেশন তাইল্যান্ড ভিসাই রিমোট ওয়ার্ক ভিসায় বদলেছে। এই দেশের সুবিধা হল, ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট মাসিক আয় দেখাতে হবে না। তবে ব্যাঙ্কে কম করে সাড়ে ১১.৫ লক্ষ টাকা থাকতে হবে।এই ভিসার সাহায্যে ভারতীয়েরা ৫ বছরে তাইল্যান্ডে ৫ বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ পাবেন।
শ্রীলঙ্কা: ভারতীয়দের সেই দেশে থেকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে শ্রীলঙ্কাও। এ জন্য ব্যক্তিবিশেষের মাসিক আয় কমপক্ষে হতে হবে ১.৬ লক্ষ টাকা।তবে সঙ্গে আরও দু’জন পারিবারিক সদস্য থাকলে অতিরিক্ত ৫০০ ডলার দিতে হবে।