হিমাচল প্রদেশের কথা উঠলেই বেশির ভাগ মানুষের মুখেই আসে শিমলা, কুল্লু, মানালির কথা। তবে এই রাজ্যের সর্বত্রই রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এক এক জায়গায় রূপ এক এক রকম। শিমলা, কুল্লু, মানালি পর্যটক মহলে জনপ্রিয় অবশ্যই, তবে হিমাচলকে নতুন ভাবে চিনতে চাইলে ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেন ধৌলাধারকে কেন্দ্র করেও। দিন সাতেকে খুব ভাল ভাবে ঘোরা যাবে। হাতে সময় কম থাকলে ৫ দিনেও ঘুরে নিতে পারেন জায়গাগুলি।
লেসার হিমালয়ের অংশ ধৌলাধার পর্বতমালা হিমাচল প্রদেশের ডালহৌসি থেকে কুল্লুর একাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। ‘ধৌলাধার’ অর্থাৎ বরফাবৃত পর্বতশৃঙ্গ। হিমাচল প্রদেশের বেশ কয়েকটি জনপদ থেকে খুব সুন্দর ভাবে দেখা যায় সেই শৃঙ্গ। ধৌলাধারই যদি পাখির চোখ হয়, শুরুটা করতে পারেন বীর বিলিং দিয়ে।
বীর বিলিং
প্যারাগ্লাইডিংয়ের স্বর্গরাজ্য বীর বিলিং। ছবি: শাটারস্টক।
হিমাচল প্রদেশের বীর বিলিংকে বলা হয় ‘প্যারাগ্লাইডিংয়ের রাজধানী’। রোমাঞ্চক কিছু করতে চাইলে প্যারাগ্লাইডিং করতে পারেন। আকাশ থেকে তুষারাবৃত ধৌলধার পর্বতমালার রূপ দেখার অভিজ্ঞতা আজীবন মনে রয়ে যাবে। জুলাই, অগস্টের সময়টুকু বাদ দিলে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে সারা বছরই প্যারাগ্লাইডিং করা যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বীর বিলিংয়ের সর্বত্রই। এই জায়গায় আশপাশে রয়েছে একাধিক বৌদ্ধ মঠ। ঘুরে নিতে পারেন চোকলিং মনাস্ট্রি। উজ্জ্বল রঙের কারুকাজ রয়েছে মনাস্ট্রির দেওয়ালে। এখান থেকে ধৌলাধারের অংশবিশেষ দেখা যায়। চা বাগিচাও ঘুরে নিতে পারেন এখান থেকে। রয়েছে ড্রুকপা মনাস্ট্রি, সেরিং জং মনাস্ট্রি। দুই রাত তিন দিন কাটিয়ে দিতে পারেন বীর বিলিংয়ে।
ধর্মশালা
গাড়িতে বীর বিলিং থেকে দূরত্ব ৭০ কিলোমিটারের মতো। ধর্মশালা ঘোরা যায় নানা ভাবে। ইচ্ছা হলে ট্রেকিংয়ের পরিকল্পনা রাখতে পারেন, আবার গাড়ি করেই এই শহরের দর্শনীয় স্থানগুলি দেখতে পারেন। আপার এবং লোয়ার ধর্মশালা ভাল ভাবে ঘুরতে হলে দিন পাঁচেক এখানেই লেগে যাবে। বিশ্বের অন্যতম সুন্দর ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে ধর্মশালায়। ধৌলাধার পর্বতশ্রেণি স্টেডিয়ামের প্রতিটি প্রান্ত থেকে দৃশ্যমান। হাতে সময় কম থাকলে ঘুরে নিতে পারেন দলাই লামা মন্দির কমপ্লেক্স। এখানে রয়েছে মঠ, মন্দির কমপ্লেক্স এবং প্রাথর্নাকক্ষ। রয়েছে ভাগসুনাগ মন্দির এবং জলপ্রপাত। গাড়ি করেই মন্দিরের কাছাকাছি যাওয়া যায়। মন্দিরের পাশ দিয়ে জলপ্রপাতের রাস্তা। হেঁটে পৌঁছতে হয় সেখানে। প্রায় ২০ ফুট উপর থেকে জলপ্রপাত নেমে এসেছে, তৈরি হয়েছে কুণ্ড।
ধৌলাধারের রূপ সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য হবে হাঁটতে পারলে। এখান ট্রিউন্ড ট্রেক জনপ্রিয়। ৯ কিলোমিটার পথ। আলাদা ভাবে ঘুরে নিতে পারেন ম্যাকলিওড গঞ্জ।
দলাই লামা মন্দির। ছবি: সংগৃহীত।
ডালহৌসি
ধর্মশালা থেকে ডালহৌসির দূরত্ব ১২০-১৩০ কিলোমিটারের মতো। এখান থেকে ঘুরে নিতে পারেন ছবির মতো সুন্দক খাজ্জিয়ার। ঘন সবুজ তৃণভূমিকে বেড় দিয়ে রেখেছে পাইনের ঘন বন। সবুজ উপত্যকার মাছে ছোট্ট হ্রদ। ঘোড়ায় চাপতে পারেন এখানে। এ ছাড়া, পাঁচ ঝর্নার মিলনস্থল পঞ্চপুলা, দৈনকুণ্ড শৃঙ্গ, কালাটপ অভয়ারণ্যও ঘুরতে পারেন।
ডালহৌসি থেকে ঘুরে নিন খাজ্জিয়ার। একাধিক হিন্দি ছবির শুটিং হয়েছে এখানে। ছবি:সংগৃহীত।
পালমপুর
পালমপুরের শোভা বাড়িয়েছে চা-বাগিচা।
হিমালচলের আর একটি সুন্দর জনপদ পালমপুর। এখান থেকেও ধৌলাধারের দর্শন পাওয়া যায়। ডালহৌসি থেকে দূরত্ব ১৪৫ কিলোমিটার। সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। কাংড়া উপত্যকার সৌন্দর্য চোখে পড়বে এই পথে। চা-বাগান পালমপুরের রূপ আরও বাড়িয়েছে। নেইগাল খাড়, বৈজনাথ মন্দির-সহ বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে এখানে।
মানালি পালমপুর থেকে মানালির দূরত্ব ১৮২ কিলোমিটার। ভ্রমণ পরিকল্পনা শেষ করতে পারেন মানালি এসে। মানালি থেকে ফিরে যেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন?
ধর্মশালা থেকে বীর বিলিংয়ে একাধিক হোটেল, রিসর্ট, হোম স্টে রয়েছে।
কী ভাবে যাবেন?
শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে চলুন পাঠানকোট। সেখান থেকে গাড়িতে করে বীর বিলিং। বিমানে দিল্লি বা চণ্ডীগড় গিয়ে বাকি পথ গাড়িতে যেতে পারেন। ধর্মশালার কাছেই আছে বিমানবন্দর। বিমানেও পৌঁছতে পারেন।