বিমানে যেমন লম্বা দূরত্ব স্বল্প সময়ে পাড়ি দেওয়া যায়, তেমনই ঝক্কি বলে মনে হয় সিকিউরিটি চেকিং। ব্যাগেজ স্ক্যান করা থেকে ধাপে ধাপে সিকিউরিটি চেকিং যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনই ঝঞ্ঝাটেরও। তার মধ্যেই অত্যাবশ্যক ধাপ হল, নির্দিষ্ট ট্রে-তে ব্যাগ, ক্যামেরা, ওয়ালেট, ল্যাপটপ, পাসপোর্ট, ঘড়ি, এমনকি জুতোও (ক্ষেত্র বিশেষে)স্ক্যান করানো।
আর এই অত্যাবশ্যকীয় ধাপের সঙ্গে জুড়ে স্বাস্থ্য-কথা। গবেষণা বলছে, স্ক্যানিং-এর জন্য ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ট্রেগুলি আদতে শৌচালয়ের চেয়েও অপরিচ্ছন্ন। কারণ, জুতো, থেকে ব্যাগ, ঘড়ি— সব কিছুই এর মধ্যে রাখতে হয়। তা প্রতিটি যাত্রীর জন্য আবশ্যক। এই ট্রেগুলি ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে রোগজীবাণু ক্রমশ এক হাত থেকে অন্য হাত, হাত থেকে মুখ এবং মুখ থেকে শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বছর দশেক আগে ফিলিপিন্সের হেলেসিঙ্কি-ভান্তা বিমানবন্দরের এক সমীক্ষা বলছে, এই ধরনের প্লাস্টিকের ট্রেগুলি রোগজীবাণুর আঁতুড়ঘর। রাইনো ভাইরাস থেকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে এতে।
তথ্য বলছে, শৌচালয়ের চেয়েও বেশি অস্বাস্থ্যকর এই ট্রেগুলি। অনেক সময় নিরাপত্তারক্ষীরা নিরাপত্তার কারণে, জুতোও স্ক্যান করান। যদিও জুতোর জন্য পৃথক ট্রে থাকে। সেখান থেকেও হাতে হাতে রোগজীবাণু ছড়াতে পারে। আবার যে ব্যাগটি নিয়ে গিয়ে অনেক সময় শৌচালয়ের বেসিনের পাশে বা মেঝেতে হয়েতো কেউ রাখছেন, সেটি ট্রেতে তুলে দিচ্ছেন।ওই ট্রে-তেই কেউ ঘড়ি রাখছেন, রাখছেন পাসপোর্ট। ফলে অজান্তেই তা হয়ে উঠছে রোগের আঁতুড়ঘর। সবচেয়ে বেশি অসুখ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা থাকে এখান থেকেই।
· সমস্যার সমাধানে ট্রে-তে স্ক্যানিং-এর পরেই হাত স্যানিটাইজ়ার দিয়ে স্যানিটাইজ় করা ভাল। পাশাপাশি, স্যানিটাইজ়ার ওয়াইপস দিয়ে ব্যাগ, ঘড়ি, পাসপোর্টও হালকা করে মুছে নেওয়া যেতে পারে।
· উপায় রয়েছে আরও একটি। নিজের জিনিপত্র ট্রে-তে দেওয়ার আগে স্যানিটাইজ়ার ওয়াইপস দিয়ে মুছে নিন বা স্যানিটাইজ়ার স্প্রে করে দিতে পারেন।
· বাইরের হাত পরিষ্কার না করে নাকে, মুখে, চোখে দেওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। তা থেকেই রোগ ছড়ায়। সুস্থ থাকতে এই ব্যাপারেও সতর্কতা জরুরি।