হন্যে হয়ে খুঁজেও কেউ মনের মতো চাকরি পান না। আবার কেউ উচ্চ বেতনের চাকরিকে উপেক্ষা করার সাহস দেখান। তাও আবার যে-সে চাকরি নয়। বছরে ২৬ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি। এমনই অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়েছেন এক তরুণ। চাকরিতে যোগ দেওয়ার সমস্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন যে ওই চাকরিটি করবেন না। মন থেকে নাকি কোনও সাড়া পাচ্ছিলেন না তিনি। সমাজমাধ্যম এক্সের পোস্টে জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তরুণ। তাঁর সেই পোস্টটি প্রকাশ্যে আসতেই নজর কেড়েছে সমাজমাধ্যমে। যদিও সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
পুষ্কর নামের এক ওয়েবসাইট ডিজ়াইনার লিখেছেন যে তিনি কোনও চাকরির ‘ফাঁদে’ পড়তে চান না। কয়েক দিন আগে, একেবারে শেষ মুহূর্তে ২৬ লক্ষ টাকা বার্ষিক বেতনের চাকরি থেকে সরে এসেছেন তিনি। তার পর থেকে মিশ্র অনুভূতি তৈরি হয়েছে তাঁর মনে। মনের এক পক্ষ বলছে যে সঠিক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে। কারণ তিনি কোনও চাকরিতে আটকা পড়তে চাননি। কিন্তু মনের অন্য পক্ষ প্রায়ই প্রশ্ন তুলছে, যদি এটি জীবনের একটি বিশাল ভুল বলে প্রমাণিত হয়?
আরও পড়ুন:
পুষ্কর লিখেছেন, যদিও প্রতি মাসে হাতে পাওয়া বেতন তাঁর জীবনে বিশাল কোনও পরিবর্তন আনবে না। বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে এই উপার্জনের তেমন কোনও গুরুত্ব নেই। তবুও তাঁর কাছে এটি মোটা বেতনের চাকরি ছিল। বিশেষ করে যে হেতু তিনি মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট গ্রাম থেকে এসেছেন।
তিনি লিখছেন, ‘‘বড় শহরগুলিতে মাসে ২ লক্ষ টাকা জীবন বদলে দেওয়ার মতো বলে মনে না হতেও পারে। কিন্তু আমি মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট গ্রাম থেকে এসেছি, যেখানে ২০-৩০ হাজার টাকা ভাল বেতন হিসাবে বিবেচিত হয়।’’ তাই সিদ্ধান্তটি এখন ভীতিকর বলে মনে হয় পুষ্করের।
তিনি জানান যে, তাঁর পেশার ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিংও স্থিতিশীল নয়। বহু উত্থান-পতন রয়েছে। তবে একটা জিনিস তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি যদি সেই চাকরিতে যোগ দিতেন, তা হলে প্রতি দিনই আফসোস করতেন। পুষ্কর লিখেছেন ‘‘অন্তরের উপর ভরসা করে সেখান থেকে চলে এসেছি। আশা করি এটি একটি ভাল সিদ্ধান্ত হবে, আমি আফসোস করব না।’’ তার পোস্টটি পড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। এক নেটাগরিক বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঝুঁকি নেওয়া জীবনের মোড় পাল্টাতে সাহায্য করে।’’