ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে কিউআরকোডের ব্যবহার এখন বহুল। দৈনন্দিন ক্ষেত্রে আমরা প্রায়শই কিউআরকোডের মাধ্যমে টাকা পাঠাই। এ ছাড়াও পণ্য বা পরিষেবা সম্পর্কে বিশদ জানার জন্য কিউআরকোড ব্যবহার করা হয়। আর সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন পুণের বাসিন্দা এক তরুণী। রেস্তরাঁয় কিউআর কোড স্ক্যান করার পর থেকে তাঁর ফোনে নানা ধরনের অপ্রীতিকর বার্তা আসতে শুরু করে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। নেটমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
কিউআর কোড স্ক্যান করার মতো একটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ দৈনন্দিন কাজও হঠাৎ করে ভীতিপ্রদ অভিজ্ঞতায় পরিণত হতে পারে সেই কথাই ভিডিয়োয় তুলে ধরেছেন তরুণী। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে ভিডিয়োয় থাকা তরুণীর নাম ঋষিকা দত্ত। তিনি জানান যে, পুণের এফসি রোডের একটি রেস্তরাঁতে গিয়েছিলেন সম্প্রতি। সেখানে সেদিন মেনু দেখতে ও অর্ডার দেওয়ার জন্য তিনি টেবিলের ওপর থাকা একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেন। আজকাল প্রায় সব রেস্তরাঁতেই এই প্রক্রিয়াটি প্রচলিত। কিউআরকোড স্ক্যান করে মেনু আসার পর তা থেকে অর্ডার দেওয়া যায়। সেই রাতেই তরুণী একটি অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ পেতে শুরু করেন। ঋষিকার মতে, প্রেরক নিজেকে রেস্তরাঁর কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন। হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাটে ওই কর্মী ব্যক্তিগত বার্তালাপ শুরু করে দেন। ঋষিকা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, তিনি কখনও সরাসরি সেই কর্মীর সঙ্গে নম্বর আদানপ্রদান করেননি। ফলে তাঁর সন্দেহ হয় যে রেস্তরাঁর ডিজিটাল অর্ডারিং সিস্টেম থেকে কেউ তাঁর নম্বরটি হাতিয়ে নিয়েছে।
ভিডিয়োটি ইনস্টাগ্রামে ‘ইমেজব্রিজ়’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করার পর ইতিমধ্যেই বহু মানুষ তা দেখেছেন। অনেক নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী এটিকে ভয়াবহ, ভীতিকর এবং গ্রাহকের বিশ্বাসের গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই রেস্তরাঁ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ওই কর্মীকে বরখাস্ত করেছে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘এই ঘটনার জন্য আমরা দুঃখিত। ২৯ এপ্রিল ওই কর্মীকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছি। গ্রাহকদের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।’’