আইনপড়ুয়াকে গ্রেফতার করল ইনদওর পুলিশের গোয়েন্দাবিভাগ। অভিযোগ, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিটের ভুয়ো প্রশ্নপত্র তৈরি করেছিলেন। এর পর সেটি নাকি পরীক্ষার্থীদের বিক্রিও করেন ৫০-১০০ টাকার বিনিময়ে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত তরুণের নাম অক্ষয় মালব্য। বয়স ১৯। ইনদওরের লসুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। প্রথম বর্ষের ছাত্র। অভিযোগ, অক্ষয় ইনস্টাগ্রামে দাবি করেছিলেন যে নিটের প্রশ্নপত্র রয়েছে তাঁর কাছে। এর পর পরীক্ষার্থীদের অনেকেই সমাজমাধ্যমে যোগাযোগ করেন তাঁর সঙ্গে। অন্য দিকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করার জন্য বিজ্ঞাপন দিতে থাকেন অক্ষয়। প্রশ্নপত্রের বিনিময়ে কখনও ৫০, কখনও ১০০ আবার কখনও ২০০ টাকা পর্যন্ত অনলাইন মাধ্যমে নিতে শুরু করেন পরীক্ষার্থীদের থেকে।
আরও পড়ুন:
যদিও তদন্তকারীদের মতে, সেই প্রশ্নপত্র পুরোটাই অক্ষয় তৈরি করেছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে। প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা গিয়েছে, প্রায় ২০ থেকে ৩৫ জন পরীক্ষার্থী এই চক্রের শিকার হয়েছেন। এর পরেই গ্রেফতার করা হয় অক্ষয়কে। জালিয়াতিতে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না এবং কী পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, পুলিশ সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে বলে খবর।
চলতি বছরের ৩ মে নিট-ইউজি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ১২ মে পরীক্ষাটি বাতিলের ঘোষণা করে সরকার। এর পর বিষয়টি নিয়ে কড়া নজরদারি ছিল শিক্ষা মন্ত্রকের। সেই আবহেই এই গ্রেফতারির ঘটনা। ইনদওর পুলিশের গোয়েন্দাবিভাগ জানিয়েছে, নিট পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত বিতর্কের সময়ও অক্ষয় একই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়িয়েছিলেন। তাই তিনি আগে থেকেই সাইবার পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। অক্ষয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮ ধারার ২ নং অনুচ্ছেদ এবং আয়কর আইনের ধারা ৬৬ডি-তে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশকর্তা।
আরও পড়ুন:
এক্সের (সাবেক টুইটার) ‘সঞ্জয়গুপ্ত_জার্নালিস্ট’ নামের হ্যান্ডল থেকে ঘটনাটির বিষয়ে জানা গিয়েছে। যদিও ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ২১ জুন, রবিবার নিটের পুনঃপরীক্ষা হয়।