নিট-এ ব্যর্থ হয়ে সেনার ভুয়ো পোশাক কেনেন। ভাড়া করেছিলেন ‘কমান্ডো’ও! এর পর এক সভায় বক্তৃতা করতে গিয়ে ফাঁস হয় ভুয়ো ব্রিগেডিয়ার আরিয়ান বর্মার কীর্তি। গ্রেফতার হন তিনি। এর মধ্যেই সেই ‘ব্রিগেডিয়ার’ আরিয়ানের একটি পুরনো ভিডিয়ো সম্প্রতি নতুন করে সামনে এসেছে এবং তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। ভিডিয়োয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার সেজে প্রতারণা করা ২১ বছর বয়সি তরুণকে ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক পরামর্শ দিতে দেখা গিয়েছে। বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে তাঁকে। একই সঙ্গে ভিডিয়োয় সিনেমার কায়দায় এক ‘বন্দুকধারী’ দেহরক্ষীকেও তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। সমাজমাধ্যমে কৌতুক এবং সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োয় ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরিয়ানকে বলতে শোনা যায়, তিনি দু’বার নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে এক জেলাশাসকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বাইরের মানুষদের সঙ্গে মেলামেশা বা যোগাযোগ রাখা জরুরি। তবেই আপনাদের চিন্তাধারার প্রসার ঘটবে এবং আপনারা সব বিষয়ে আপ-টু-ডেট থাকতে পারবেন।” তবে মানুষের নজর সবচেয়ে বেশি কেড়েছে আরিয়ানের কথা বলার নাটকীয় ভঙ্গি। পাশাপাশি, তাঁর পাশে নিরাপত্তারক্ষীরা যে ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন তা দেখে অনেকেই বিষয়টি স্বল্প বাজেটের অ্যাকশন সিনেমার দৃশ্য বলে মনে হয়েছে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘দ্য স্কিন ডক্টর’-এর এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। হাসির রোল উঠেছে নেটপাড়ায়। ভিডিয়োটি দেখার পর এক নেটাগরিক ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘‘ওঁকে কেন সীমান্তের ওপারে পাঠানো হচ্ছে না? প্রতারণায় তাঁর যে দক্ষতা, তাতে তিনি হয়তো কোনও এক রাতে আসিম মুনিরকে ভারতে ধরে নিয়ে আসতে পারবেন। সুড়ঙ্গ দিয়ে না পারলে ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে তাঁকে ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হোক।’’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা আরিয়ান তাঁর পরিবার এবং প্রতিবেশীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে তিনি ভারতীয় সামরিক ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্রিগেডিয়ার। তিনি কেবল মিথ্যে বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং সেই মিথ্যেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সিনেমার মতো সাজানো পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। সেনার একটি পেশাদার ইউনিফর্ম কিনেছিলেন আরিয়ান। ভাড়া করেছিলেন একটি বিলাসবহুল এসইউভি। এমনকি দৈনিক ২,০০০ টাকার বিনিময়ে দুজন স্থানীয় বাউন্সারকে ‘এনএসজি কমান্ডো’ হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন।
তবে সেনাবাহিনীর কোনও প্রবীণ সদস্যের কাছে এই প্রতারণাটি ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট এবং ধরা পড়ার মতো। বাস্তবে, ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদায় পৌঁছোতে সাধারণত ২৫ থেকে ২৮ বছরের চাকরির প্রয়োজন হয়। অথচ আরিয়ান কোনও রকম খোঁজখবর না নিয়েই সরাসরি সেই উচ্চ পদে আসীন হওয়ার ভান করেছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরিয়ানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পতন ঘটে তখন, যখন তাঁকে শাহজাহানপুর ক্যান্টনমেন্টে তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে একটি ‘অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা’ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রচারের আলোয় আসার আগ্রহ নিয়ে তিনি পতাকা লাগানো এসইউভি-তে চড়ে সেখানে পৌঁছোন তিনি। কিন্তু সেখানে মুখোমুখি হন সেনাবাহিনীর আসল কর্মকর্তাদের। ধরা পড়ে যান আরিয়ান।
আরও পড়ুন:
তল্লাশির সময় ‘ব্রিগেডিয়ার’-এর কাছে একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র, এএফএমসি-র একটি জাল সিলমোহর এবং একটি খেলনা পিস্তল পাওয়া যায়। ঘটনার চূড়ান্ত পরিহাসের বিষয় হল, কর্মকর্তারা লক্ষ করেন যে আরিয়ানের ‘নক-নি’ বা দু’টি হাঁটু পরস্পরের সঙ্গে ঠেকে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে, যা এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যার কারণে তিনি শুরুতেই সেনাবাহিনীতে যোগদানের অযোগ্য বলে বিবেচিত হতেন। আরিয়ান বর্তমানে গুরুতর আইনি অভিযোগের মুখোমুখি।