E-Paper

ক্যানিং পূর্বে আরাবুল ইসলামে আপত্তি সিপি‌এমের একাংশের

২০১৩ সালে আরাবুলের নেতৃত্বে ভাঙড়ের কাঁটাতলায় তৎকালীন সিপিএমের বিধায়ক রেজ্জাক মোল্লার উপরে হামলা, মারধরের অভিযোগ ওঠে।

সামসুল হুদা

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৭
আরাবুল ইসলাম।

আরাবুল ইসলাম। ফাইল চিত্র।

যাঁর সঙ্গে এত দিনের টক্কর, জোটের দায়ে কি মেনে নিতে হবে তাঁকেও?

তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দেওয়া আরাবুল ইসলামকে নিয়ে এখন এ হেন বিড়ম্বনা ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে সিপিএমের অন্দরমহলে। আরাবুলের সঙ্গে সিপিএমের রাজনৈতিক রেষারেষির ইতিহাস দীর্ঘ। এ দিকে, ক্যানিং পূর্বে আরাবুল দাঁড়ালে আইএসএফের সঙ্গে জোটের দায়বদ্ধতার কারণে তাঁর হয়ে প্রচারে নামতে হতে পারে সিপিএমকে। এই পরিস্থিতি মেনে নিতে নারাজ দলের স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মীই। তাঁরা চাইছেন, অন্তত এই আসনে আইএসএফের বিরুদ্ধে আলাদা প্রার্থী দিক সিপিএম। তা হলে আরাবুল-প্রশ্নে দায় এড়ানো যাবে।

২০১৩ সালে আরাবুলের নেতৃত্বে ভাঙড়ের কাঁটাতলায় তৎকালীন সিপিএমের বিধায়ক রেজ্জাক মোল্লার উপরে হামলা, মারধরের অভিযোগ ওঠে। ভাঙড়ের বামনঘাটায় আরাবুলের নেতৃত্বে সিপিএমের একাধিক মিছিলের গাড়িতে ভাঙচুর, আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। রেজ্জাকের উপরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরাবুলকে জেলে যেতে হয়। সেই রেজ্জাক ২০১৬ সালে সিপিএম থেকে এসে তৃণমূলের টিকিট পাওয়ায় দলের মধ্যে আরাবুল বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু রেজ্জাক ভাঙড় থেকে জিতে মন্ত্রী হন। এখনকার পরিস্থিতি দেখে সে কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন বাম নেতাদের কেউ কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যানিং পূর্বের এক সিপিএম নেতা বলেন, ‘‘যে আরাবুলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, তাঁকে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা আলাদা প্রার্থীর দাবি করছি।’’ দলের জেলা সম্পাদক রতন বাগচী বলেন, ‘‘রাজ্য নেতৃত্ব ভাবছেন। তাঁরা আইএসএফের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলছেন। দল যদি নির্দেশ দেয়, তা হলে বিকল্প প্রার্থীর কথা আমরা ভাবব।’’

২০০৬ সালে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। সেই থেকেই সিপিএমের সঙ্গে তাঁর বিরোধ শুরু। এতদিন যে আরাবুলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই সিপিএমের, সেই আরাবুলকে সমর্থন করে নির্বাচনী প্রচারে আপত্তি সিপিএমের নিচুতলার কর্মীদের। ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে আরাবুলকে নিয়ে নানা তির্যক মন্তব্য করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বামেরাও আরাবুলের শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

সিপিএমের নিচুতলার কর্মীরা জানাচ্ছেন, তাঁরা কোনও ভাবেই আরাবুলকে মানবেন না। ইতিমধ্যে তাঁরা সিপিএমের জেলা কমিটি ও রাজ্য কমিটির কাছে বার্তা পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রয়োজনে তাঁরা ক্যানিং পূর্ব প্রার্থী আরাবুল ইসলামকে বয়কট করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এমনকি, ক্যানিং পূর্বে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে সিপিএমের একটি সূত্রের খবর।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিতর্ক আরাবুলের পিছু ছাড়েনি। কখনও কলেজ শিক্ষিকাকে জগ ছুড়ে মারা, কখনও তৎকালীন কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার ওসির মাথায় বাঁশের বাড়ি মারা থেকে শুরু করে একাধিক ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন আরাবুল। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে, ভাঙড়ে আরাবুলের অত্যাচারে ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন সিপিএম নেতারা। আরাবুলের অত্যাচারে ভাঙড়ের বহু সিপিএম নেতা রাজনীতি থেকে অবসর নেন বলেও শোনা যায়।

দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম সম্পর্কে আরাবুলের প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমি টিকিট পাওয়ার পরেই সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছি। তাঁরা আমাকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। আসলে ক্যানিং পূর্বে তৃণমূল হেরে যাবে জেনে সওকাত মোল্লা এ সব করাচ্ছেন।’’

সওকাত বলেন, ‘‘আমরা ২০১৬ সালে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতেছি। ২০২১ সালেও আইএসএফের বিরুদ্ধে জিতেছি। এখানে সিপিএম ও আইএসএফের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই। আরাবুল হেরে যাবে, সেই ভয়েই এখন সিপিএমের পায়ে ধরে এ সব করাচ্ছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Canning Arabul Islam ISF CPIM

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy