E-Paper

প্রচারে শিল্পের কথা ফিরছে সব দলের মুখেই

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সব শিল্প ভেঙে পড়ে। বহু মানুষ কাজ হারিয়ে অন্যত্র পাড়ি দিতে বাধ্য হন।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক সময়ে ‘শিল্পাঞ্চল’ হিসেবে পরিচিতি ছিল অশোকনগরের। সেই পরিচিত আজ অনেকটাই ফিকে। প্রতি ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলির তরফে শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবে পূরণ হয় না বলে ক্ষোভ রয়েছে আমজনতার। এ বারের নির্বাচনেও শিল্পকে কেন্দ্র করেই অশোকনগরে আবর্তিত হচ্ছে রাজনীতি।

তৃণমূল বিধানসভার দলীয় ইস্তাহারে শিল্প গড়ার আশ্বাস দিয়েছে। বিজেপি ছোট শিল্পের হাব গড়ার কথা বলছে। আইএসএফ কুটির শিল্পে জোর দিচ্ছে।

দেশভাগের পর উদ্বাস্তু মানুষের হাতে গড়ে ওঠা এই শহরে একের পর এক ছোট-বড় শিল্প, কল-কারখানা তৈরি হয়েছিল। চুন তৈরির কারখানা, জামাকাপড় উৎপাদন ইউনিট, কাঠের সরঞ্জাম তৈরির কারখানা, পুতুল শিল্পের কেন্দ্র— সব মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িয়ে ছিল এই শিল্পগুলির সঙ্গে। কল্যাণী স্পিনিং মিলও ছিল এলাকার অন্যতম বড় কর্মসংস্থানের উৎস।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সব শিল্প ভেঙে পড়ে। বহু মানুষ কাজ হারিয়ে অন্যত্র পাড়ি দিতে বাধ্য হন। মানুষের সেই ক্ষোভকে হাতিয়ার করে দীর্ঘ সময় চলেছে রাজনীতি। এ বারের ভোট-মরসুমেও অশোকনগরের বহু মানুষের মূল প্রশ্ন একটাই— শিল্প কি ফিরবে?

তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামীর দাবি, শিল্প নিগমের পরিকল্পনা ইউনিটের অধীনে ৩৬ একর জমি আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ব্র্যান্ডগুলিকে ‘ফ্যাক্টরি আউটলেট’ তৈরির জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “প্রায় ১৬টি উৎপাদন ইউনিটের নির্মাণকাজ চলছে। এগুলি চালু হলে অশোকনগরে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান তৈরি হবে।”

বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের অভিযোগ, ‘‘কল্যাণী স্পিনিং মিল আধুনিকীকরণের নামে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে কিছু হয়নি। আমরা ক্ষমতায় এলে এই মিল চালু করে ছোট শিল্পের হাব গড়ে তুলব।” আইএফএস প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “আমরা ক্ষমতায় এলে কুটির শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করব এবং কল্যাণী স্পিনিং মিল ফের চালু করব।”

নতুন সম্ভাবনাও এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। বাইগাছিতে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পেলেও এখনও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেনি ওএনজিসি। তা নিয়েও কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে দায় চাপানোর রাজনীতি চলছে।

রাজনৈতিক তরজার মাঝেই সাধারণ মানুষের বক্তব্য স্পষ্ট— দোষারোপ নয়, বাস্তব উন্নয়ন চাই। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘আমাদের কাজ চাই। আবার কারখানার সাইরেন বাজুক অশোকনগরে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Ashoknagar TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy