দুর্নীতি, যৌন হেনস্থা, তোলাবাজি, এমনকি, পুরসভায় নিজের অপছন্দের লোক ঢুকলে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল খোদ পুরপ্রধানের ছেলের বিরুদ্ধেই। শনিবার নৈহাটির সেই পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎকে সোদপুরের আবাসন থেকে গ্রেফতার করা হল। তাঁকে ঘিরে ধরে ডিম ছোড়া হয়। সেই সঙ্গে জুতো দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি ‘চোর, চোর’ বলে চিৎকার করেন এলাকার মহিলারা। থানা থেকে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময়ে ধস্তাধস্তিতে ডিম লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় কুসুমে মাখামাখি হন পুলিশের আধিকারিকেরাও।
রাজ্যে পালাবদলের পরে নৈহাটি পুরসভা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। বর্তমান সাংসদ, তৃণমূলের পার্থ ভৌমিক তাঁর নিজের এলাকাতেই ব্রাত্য। পুরপ্রধান পুরসভায় ঢুকতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়ে আত্মগোপন করেছেন। একই অবস্থা প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে-র। তাঁর দিকেও ডিম ও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছিল কিছু দিন আগে। রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংহ অভিযোগ করেছেন, ‘‘ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে দুর্নীতি, দুষ্কর্ম পরিচালনা হত নৈহাটি থেকে। সাংসদ, প্রাক্তন বিধায়কেরা এই সব দুষ্কৃতীকে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় করে রেখেছিলেন। আজ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সেই কথাই স্পষ্ট করছে।’’
নৈহাটির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অন্তরা ও অনুপম দত্তের অভিযোগ, ‘‘২০২১ সালের পরে আমাদের বাড়িছাড়া করেছিলেন অভিজিৎ।’’ অনুপম বলেন, ‘‘আমার বৃদ্ধ, অসুস্থ বাবার পায়ে প্লেট বসানো হয়েছিল। সেই অবস্থায় বাড়িতে ঢুকে মানুষটাকে কী মার মারল! প্রতিবাদ করে কিছু হয়নি। বাবা, মা দু’জনেই মারা গেলেন কিছু দিন পরে। মৃত্যুর শংসাপত্রটুকু পুরসভা থেকে পাইনি।’’ শনিবার ভোরে সোদপুরের একটি আবাসন থেকে ধরার পরে নৈহাটি থানায় আনা হয়েছিল অভিজিৎকে। সেখান থেকে বার করে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময়েই উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে ডিম ছুড়তে থাকে। জুতোপেটাও করা হয় মাথায় ও পিঠে। সেই সময়ে ডিম লাগে নৈহাটির আইসি-সহ অন্য পুলিশ আধিকারিকদের গায়ে।
স্থানীয়েরা জানান, ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল অভিজিতের। এলাকায় মারামারির ঘটনায় পুলিশ এর আগে তাঁকে গ্রেফতারও করেছে। এ বার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এলাকাছাড়া ছিলেন এই তৃণমূল নেতা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)