Advertisement
E-Paper

আলুর কেজি ৩৫, আটক ব্যবসায়ী

কালোবাজারি রুখতে শনিবার ক্যানিং ১ ব্লকের বিভিন্ন বাজারে হানা দেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২০ ০৩:৪৫
গুদামে হানা আধিকারিকদের। জয়নগরে। ছবি: সুমন সাহা

গুদামে হানা আধিকারিকদের। জয়নগরে। ছবি: সুমন সাহা

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম গত দু’তিন ধরেই বাড়ছে। টানা গৃহবন্দি হওয়ার আশঙ্কা চেপে বসেছে মানুষের মনে। এই পরিস্থিতিতে চাল, আলু, পেঁয়াজের মতো মালপত্র মজুত করতে শুরু করেছেন অনেকে। ফলে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাহিদা। মওকা বুঝে বাড়তি দাম হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা। ১৭ টাকা কেজি দরের আলু এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭-৩৫ টাকায়। বাকি সব বহু পণ্যেরই দাম ঊর্ধ্বমুখী।

কালোবাজারি রুখতে শনিবার ক্যানিং ১ ব্লকের বিভিন্ন বাজারে হানা দেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। বেশি দামে আলু বিক্রি করায় বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৫০ বস্তার মতো আলু বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। এই ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে আটক ও করেছে পুলিশ।

ক্যানিং ১ বিডিও নীলাদ্রিশেখর দে, ক্যানিং থানার আইসি অমিত হাতির নেতৃত্বে তালদি, ক্যানিং-সহ বেশ কয়েকটি বাজারে পৌঁছে যান প্রশাসনের আধিকারিকেরা। আলুর দামে অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে অনেক জায়গায়। তালদি বাজারে ৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছিল। কোথাও দাম ৩০-৩২ টাকা। প্রশাসনের আধিকারিকদের দেখে অনেকে আবার আলুর দর এক ধাক্কায় কমিয়ে ১৫ টাকায় নিয়ে আসেন। এই বাজারেই তল্লাশি অভিযান চালিয়ে প্রায় পঞ্চাশ বস্তা আলু বাজেয়াপ্ত করে প্রশাসন।

ক্যানিং বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয় আধিকারিকদের। কোনও মতেই ১৮ টাকা কেজির বেশি যাতে আলুর দাম না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়েকজন ক্রেতা অবশ্য বিডিও এবং আইসির কাছে অভিযোগ জানান, ক্যানিং বাজারে ৩৫ টাকা কেজি দরেও আলু বিক্রি হয়েছে। এ দিন বেলা ১২টার আগেই ক্যানিং বাজারে সমস্ত আলু নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল। বিডিও বলেন, ‘‘সুযোগ বুঝে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আলু-সহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা বিভিন্ন বাজারে ঘুরে সেই দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেছি। আগামী কয়েক দিন ধরে অভিযান চলবে।’’

একই পরিস্থিতি বসিরহাটের বহু বাজারে। মাইক প্রচারের পরেও দাম বাড়ছে জিনিসের। পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার থেকে নজরদারিতে নামল পুলিশ-প্রশাসন। বসিরহাট রেজিস্ট্রি অফিসের মোড়ে এক ওষুধ ব্যবসায়ী-সহ ওই দোকানের কর্মীদের আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়তে দাম নেওয়ার জন্য দোকানটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। হিঙ্গলগঞ্জ সন্দেশখালি, হাসনাবাদ, বাদুড়িয়া, মাটিয়া, মিনাখাঁ, হাড়োয়া এবং ন্যাজাটেও কালোবাজারি রুখতে প্রচার চলেছে। বসিরহাট টাউনহলে নতুন বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক প্রদীপ কুণ্ডু বলেন, ‘‘দু’শোর বেশি দোকানিকে বলা হয়েছে, কোনও ভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ালে তা বরদাস্ত করা হবে না।’’

বসিরহাট থানার আই সি প্রেমাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের নির্দেশ, দোকান-বাজার বন্ধ করা যাবে না। এ সময়ে মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে কেউ ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ পেলে তৎক্ষণাৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ শনিবার সকালে জীবনতলা বাজারেও হানা দেন আধিকারিকেরা। আলু ২২-২৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানতে পারেন তাঁরা। এই মুহূর্তে দাম ১৮ টাকা প্রতি কেজিতে রাখতে বলা হয়েছে।

শনিবার জয়নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখেন জেলার কৃষি বিপণন ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম। পুরসভা ও ব্লক এলাকার একাধিক বাজার ঘোরার পাশাপাশি আলু-পেঁয়াজের আড়তগুলিও পরিদর্শন করেন তিনি। জয়নগরের একাধিক বাজারে বৃহস্পতিবার থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অনেকটা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মানুষ। শনিবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে টাস্ক ফোর্স। সঙ্গে ছিলেন সালাম। সালাম বলেন, ‘‘শুক্রবার অনেক জায়গাতেই আলুর দাম অনেকটা বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও ৪০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আলুর দাম ১৮ টাকায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কেউ বেশি দাম যাতে না নেন, সতর্ক করা হয়েছে।’’ পুরপ্রধান সুজিত সরখেল বলেন, ‘‘কোনও ভাবেই কালোবাজারি মেনে নেওয়া হবে না। বাজারে বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বোঝানো হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করার অধিকার কৃষি বিপণন দফতরের।

Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy