ফের উত্তেজনা যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজে। সরস্বতী পুজোর আয়োজন করবে কারা— প্রাক্তনীদের দাপটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাতেই এই অশান্তি বলে জানা গিয়েছে। অধ্যক্ষের ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে।
সূত্রের খবর, সরস্বতী পুজো আয়োজনে প্রাক্তনীদের উপস্থিতিতে আপত্তি রয়েছে বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের। কিন্তু সে দাবি মানতে নারাজ অধ্যক্ষা। এমনকি তিনি পড়ুয়াদের পুজো করতে দিতে চাইছেন না বলেও অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা। এক ছাত্রী সায়নিকা দে বলেন, “অধ্যক্ষা কোনও ভাবেই আমাদের পুজোটা করতে যেতে চাইছেন না। আমাদের কোনও কথাও শুনছেন না।”
আরও পড়ুন:
তবে, এই প্রথম নয়। সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে গত বছরও অশান্তি তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি এমনই ছিল যে আদালতের নির্দেশে কলেজজে সরস্বতী পুজো হয়েছিল অস্ত্রধারী পুলিশের উপস্থিতিতে। এ বারও পরিস্থিতি সে দিকে গড়াচ্ছে বলে দাবি বর্তমান পড়ুয়াদের। তাঁদের অভিযোগ, এ পুজোয় প্রাক্তনীরা যোগ দিলে, তাঁদের নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হবে।
তবে, অধ্যক্ষার দাবি ভিন্ন। তিনি জানিয়েছেন, পুজো তহবিল কিছু পড়ুয়া নিজেদের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন। তারই বিরোধিতা করেন তিনি। অধ্যক্ষা সুনন্দা গোয়েঙ্কা বলেন, “আমরা যা করছি, আইন মেনে করছি। পুজোর জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। সমস্যার সমাধান হয়েছে। আশা করি সুষ্ঠু ভাবে পুজো সম্পন্ন হবে। আমার কাছে সকলেই পড়ুয়া। সেখানে প্রথম বর্ষ বা পঞ্চম বর্ষ বলে কোনও ভাগ নেই।”
এ দিকে পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। তাই ছাত্র সংসদের অস্তিত্বই নেই। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরাই পুজো করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষা একটি কমিটি তৈরি করে দেন। তান্দিশা বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ছাত্রী বলেন, “এই কমিটিতে পঞ্চম বর্ষের কিছু পড়ুয়া রয়েছেন। তাঁরা সমস্ত কাজে বাধা দিচ্ছেন। পুজোর রাশ তাঁরা নিজেদের হাতে রাখতে চাইছেন। বিশেষত তহবিল ধরে রাখাই তাঁদের উদ্দেশ্য।”