স্কুলের নামকরণ হয়েছে। হয়েছে শিক্ষিকা নিয়োগ। সর্বশিক্ষা মিশনের আওতায় ভবন নির্মাণের টাকার অনুমোদনও মিলেছে। কিন্তু প্রায় ছ’বছর হয়ে গেল স্কুলভবনের কোনও অস্তিত্বই নেই। জয়নগর ১ ব্লকের পাখিরালা জুনিয়র হাইস্কুলটি অনুমোদেনের পরেও চালু না হওয়ায় সমস্যায় এলাকাবাসী।
ওই ব্লকে চালতাবেড়িয়া পঞ্চায়েতে ২০১০ সালে পাখিরালা জুনিয়র হাইস্কুলটি অনুমোদন পায়। স্কুলভবন নির্মিত হওয়ার কথা ছিল ব্যানার্জিরচক গ্রামের পাখিরালা প্রাথমিক স্কুলের জমিতেই। সেই মতো সর্বশিক্ষা মিশনের টাকাও বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে জট তৈরি হওয়ায় টাকা ফেরত যায়। স্কুলভবন তৈরি না হলেও স্কুল অনুমোদনের পরেই ২০১৩ সালে একজন শিক্ষিকা ও একজন শিক্ষক পাঠানো হয়েছিল। শিক্ষক অন্য চাকরি পেয়ে চলে যান।
শিক্ষিকা শেফালি সরকার ২০১৪ সালে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ঘরে ৪৮ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে পঠন-পাঠন শুরু করেছিলেন। ২০১৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ঘরে গাদাগাদি করে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ানোর কাজও চলে। এ ভাবে দু’বছর চলার পরে পড়াশোনা ঠিকঠাক হচ্ছে না— এই অভিযোগে অভিভাবকেরা ছেলেমেয়েদের অন্য স্কুলে পাঠান। ফলে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় জুনিয়র হাইস্কুলের পঠন-পাঠন।
পড়াশোনা বন্ধ থাকলেও শিক্ষিকা শেফালি নিয়ম করে স্কুলে আসেন। প্রাথমিক স্কুলেই বসেন। মাঝে-মধ্যে বেরিয়ে পড়েন পাড়া ঘুরতেও। ছুটির সময় হলে বেরিয়ে পড়েন। জয়নগরের দক্ষিণ বারাসতের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকলেও তাঁর আসল বাড়ি নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। শেফালি বলেন, ‘‘বাড়িতে অসুস্থ মাকে রেখে স্কুলে আসি। এ দিকে এখনও পঠন-পাঠন চালু হল না। আমি চাই, নদিয়া জেলার কোনও স্কুলে আমায় পাঠানো হোক।’’
কিন্তু প্রাথমিক স্কুলের জমিতে জুনিয়র স্কুল নির্মাণের সমস্যা কোথায়?
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মেঘনাথ হালদার বলেন, ‘‘আমার স্কুলের সামনের মাঠে জুনিয়র হাইস্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামের একাংশের বাধায় তা করা যায়নি।’’ তিনি আরও বলেন, স্কুলের পিছনে যে জমি পড়ে রয়েছে, তা-ও বাস্তুকারকে দেখানো হয়েছিল। জমি নিচু হওয়ায় তারা রাজি নয়।প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ওই গ্রামেরই বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ নস্কর, বাবলু হালদারেরা বলেন, ‘‘এলাকার কোনও গ্রামে খেলার মাঠ নেই। এই স্কুলের মাঠটিই গ্রামের ছেলেমেয়েদের এক মাত্র সম্বল। জুনিয়র হাইস্কুলের ভবন মাঠে না করে স্কুলের পিছনের জমিতে করা হোক। দরকার হলে ওই জমি আমরাই মাটি ফেলে ভরাট করে দেব।’’ গ্রামবাসীদের দাবি, গ্রামের কাছাকাছি কোনও মাধ্যমিক স্কুল না থাকায় ছেলেমেয়েদের প্রায় ২-৩ কিলোমিটার দূরে পাঠাতে হয়।
জয়নগর উত্তর চক্রের প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক কৃষ্ণেন্দু ঘোষ বলেন, ‘‘জুনিয়র হাইস্কুল চালু হলে এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটবে। স্কুলভবন নির্মাণ করে তাই স্কুল চালু হোক না হলে ওই স্কুলে নিযুক্ত শিক্ষিকাকে অন্যত্র পাঠানো হোক।’’ জেলা স্কুল পরিদর্শক মাধ্যমিক নজরুল সিপাই বলেন, ‘‘স্কুলটির ভবন নির্মাণ ও চালুর বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আপাতত একটি ঘর তৈরি করে পঠন-পাঠন চালানোর চেষ্টা চলছে।’’