Advertisement
E-Paper

শুনানি থেকে ফিরে ‘আতঙ্কিত’! স্ট্রোক হয়ে বাদুড়িয়ায় মৃত্যু বৃদ্ধার, পরিবার দুষছে এসআইআরকে

কাশীনাথ জানিয়েছেন, তাঁর মা অনিতা, বাবা বিরাজ বিশ্বাস বাদুড়িয়ার স্থায়ী বাসিন্দা। কোনও অজ্ঞাত কারণে ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় তাঁর বাবা বিরাজের নাম উঠলেও মা অনিতার নাম ওঠেনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২৭

— প্রতীকী চিত্র।

এসআইআরের ‘আতঙ্কে’ আরও এক জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। এ বার বাদুড়িয়ায়। মৃতার নাম অনিতা বিশ্বাস। তাঁর বয়স ৭৫ বছর। মৃতার পরিবারের দাবি, এসআইআরের শুনানিতে যাওয়ার পর থেকে ‘উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত’ হয়ে পড়েন অনিতা। তার জেরে স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু হয়।

মৃতা পুত্র কাশীনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘‘এসআইআরের ফর্ম ভরে জমা দেওয়ার পর মাকে শুনানিতে ডাকা হয়। গত ৫ তারিখ তিনি শুনানিতে যান এবং কাগজপত্র দেখান। তার পরে সদুত্তর না পেয়ে মা চিন্তিত এবং আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ৭ তারিখে তাঁর স্ট্রোক হয়।’’ কাশীনাথ আরও জানান, বৃদ্ধাকে তড়িঘড়ি প্রথমে বাদুড়িয়া রুদ্রপুর হাসপাতাল এবং তার পরে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। রবিবার রাত ১১টা নাগাদ হাসপাতালেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধার।

কাশীনাথের দাবি, তাঁর মা অনিতা, বাবা বিরাজ বিশ্বাস বাদুড়িয়ার স্থায়ী বাসিন্দা। কোনও অজ্ঞাত কারণে ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় তাঁর বাবা বিরাজের নাম উঠলেও মা অনিতার নাম ওঠেনি। কিন্তু তার আগে ১৯৯৫ সালের ভোটার তালিকায় অনিতার নাম ছিল। পরবর্তীতে ভোটার তালিকাতেও বৃদ্ধার নাম ছিল বলে জানান পুত্র।

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হলে বৃদ্ধা তাঁর নথিপত্র জমা দেন। কিন্তু ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় নাম না থাকায় শুনানিতে ডাক পান তিনি। কাশীনাথ জানিয়েছেন, ৫ জানুয়ারি শুনানিতে গিয়ে নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও আধিকারিকদের কাছ থেকে আশ্বাসবাণী পাননি বৃদ্ধা। তাতেই তিনি ‘আতঙ্কিত’ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মৃতার নাতনি সোমা হালদার বলেন, ‘‘ঠাকুমা শুনানি থেকে ফিরে আসার পরে খুবই চিন্তা করছিল। বারবার বলছিল আমাকে এই শেষ বয়সে জেলে থাকতে হবে।’’ এলাকার তৃণমূল নেতা নমাজ সর্দার বলেন, ‘‘এসআইআর করাটা অত সহজ কাজ নয়। এত কম সময়ে এসআইআরের মতো বৃহৎ কাজ হয় না। তার জন্য অনেকটা সময় লাগে। ধীরেসুস্থে বুঝে শুনে করতে হয়। দু’মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে গিয়ে যা হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের ছোটখাটো সমস্যাগুলি বড় আকার ধারণ করছে এবং তাতেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে মানুষের মৃত্যু ঘটছে। এটা কাম্য নয়।’’ মৃতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এর আগে শুক্রবার হাসনাবাদে ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ বছরের এক যুবকের। তাঁর পরিবারের দাবি, এসআইআর ‘আতঙ্কেই’ তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy