শুখা মরসুমে যোগাযোগে ভরসা নড়বড়ে বাঁশের মাচা। আর বর্ষার কয়েক মাস নৌকোয় চলে পারাপার। বিপজ্জনক ভাবে যাতায়াত করতে অবশ্য গাঁটের কড়ি খরচ করতে হয়। নয়তো যাতায়াত ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে। তার পরেও মালদহের চাঁচলের খিদিরপুরঘাটে মহানন্দায় সেতু না হওয়ায় বিপাকে ভবানীপুরের বাসিন্দারা। বিধানসভা ভোট এগিয়ে আসছে। ফের ওই ঘাটে সেতুর দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়েরা।
স্থানীয়েরা জানান, খরবা পঞ্চায়েতের ভবানীপুর এলাকাটি মহানন্দার এ-পারে। ও-পারে ইটাহার ব্লকের কামারডাঙা এলাকা। খিদিরপুর ঘাটে নদী পেরিয়ে তাঁদের যাতায়াত করতে হয়। তবে সম্প্রতি কামারডাঙা যাওয়ার জন্য পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তা তৈরি হয়েছে। রাত-বিরেতে কেউ অসুস্থ হলে সেই রাস্তা দিয়ে অন্য জেলা পেরিয়ে ১২ কিলোমিটার ঘুরপথে হাসপাতালে পৌঁছতে হয়। কিন্তু সময় বাঁচাতে সকলেই নদী পেরিয়েই যাতায়াত করেন। বর্ষায় নৌকায় ঝুঁকির পাশাপাশি শুখা মরসুমেও বাঁশের মাচা পার হওয়ার সময় একাধিক বার দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের পাশাপাশি ভবানীপুরে স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে পৌঁছাতেও বিপাকে পড়তে হয় কর্মীদের। ভোটের মুখে এলাকায় সেতুর আশ্বাস মেলে। কিন্তু কাজের কাজ হয় না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মলয় বসাক বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতের পক্ষে সেতু তৈরি সম্ভব নয়। ওখানে সেতু হলে তো ভালই হয়। বিষয়টি জেলা পরিষদে জানানো হয়েছে।’’ জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি রফিকুল হোসেন বলেন, ‘‘এলাকাটি কৃষি-প্রধান। সেতু হলে কৃষকদেরও সুবিধা হত। সমস্যা মেটাতে আমি সব রকম চেষ্টা করব।’’ চাঁচলের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘‘সেতু তৈরি বড় প্রকল্প। তাও ওখানে যাতে ছোট আকারে কোনও সেতু হয়, সে জন্য উদ্যোগী হয়েছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)