Advertisement
E-Paper

এসআইআর নিয়ে দুশ্চিন্তা! ঘুমের মধ্যে মৃত্যু যুবকের! তপ্ত হাসনাবাদ, নির্বাচন কমিশনকে তোপ তৃণমূলের

পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টের ‘হার্ড কপি’তে ফিরোজ মোল্লার বাবা-মায়ের নাম রয়েছে। কিন্তু বিএলও অ্যাপে অনলাইন রেকর্ডের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই থেকে দুশ্চিন্তায় ছিলেন যুবক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫২
SIR Related Death In Bengal

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এসআইআরের ‘আতঙ্কে’ আরও এক মৃত্যুর অভিযোগ। ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদে। শুক্রবার ঘুমের মধ্যে মারা গিয়েছেন ৩৮ বছরের যুবক। শুক্রবার সকালে তাঁকে ডাকতে গিয়ে পরিবারের সদস্যেরা বুঝতে পারেন, ফিরোজ আর নেই! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল হাসনাবাদের ভেবিয়া এলাকায়।

পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টের ‘হার্ড কপি’তে ফিরোজের বাবা-মায়ের নাম রয়েছে। কিন্তু বিএলও অ্যাপে অনলাইন রেকর্ডের সঙ্গে তার মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই থেকে দুশ্চিন্তায় ছিলেন যুবক।

অন্যদের মতো ফিরোজও গণনাপত্র (এনুমারেশন ফর্ম) পূরণ করেছিলেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা-মায়ের নাম-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছিলেন। তার পরেও নির্বাচন কমিশনের তরফে শুনানির নোটিস পান তিনি। গত ৩ জানুয়ারি শুনানিতেও গিয়েছিলেন। সেখানেও গিয়ে শোনেন ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা-মায়ের (মোবাক মোল্লা এবং জরিনা মোল্লা) নাম থাকলেও অনলাইনে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় মিল ছিল না বাবা-মায়ের নামের। কী হবে, এ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যুবক। স্ত্রী এবং মা জানান, বাড়িতেও বারবার ফিরোজ বলেছিলেন, কেন নাম উঠল না, বুঝে উঠতে পারছেন না। শুক্রবার সকাল ৬টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠেও এসআইআর নিয়ে কথা বলেছেন। তার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

ফিরোজের স্ত্রী সেলিনা মোল্লা বলেন, ‘‘এসআইআরের শুনানিতেও বাবা-মায়ের নাম অনলাইনে মিল না হওয়ায় প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় ভুগছিল ও। আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠে ও। উঠেই ওই নিয়েই কথা বলছিল। তার পর আবার শুয়ে পড়ে। ডাকতে গিয়ে দেখি নড়াচড়া করছে না। ডাকাডাকি করলাম। কথা বলছিল না। আমি তাড়াতাড়ি সকলকে ডাকি। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য এসআইআর দায়ী।’’

ফিরোজের মা জরিনা বলেন, ‘‘৩ তারিখ থেকে ও ভেঙে পড়েছিল। কত করে বললাম, সব ঠিক হয়ে যাবে চিন্তা করিস না। কিন্তু সেই দুশ্চিন্তা করতে করতেই মারা গেল ছেলেটা।’’ হাহাকার করে ওঠেন প্রৌঢ়া। ভেবিয়া পঞ্চায়েত প্রধান অলিউল মণ্ডলের অভিযোগ, ‘‘এসআইআরের জন্য মারা গেল ছেলেটা। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। ওর অবর্তমানে পরিবারের কী হবে, ভাবতে পারছি না। ছোট ছোট বাচ্চা আছে... আমরা পরিবারের পাশে আছি। তৃণমূলের তরফে যতটুকু সাহায্য দেওয়া যায়, আমরা করব।’’ পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে নিশানা করেছে শাসকদল।

এর আগে রাজ্যে ৬১ জন মানুষের মৃত্যুর জন্য এসআইআরকে দায়ী করেছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবারই মারা গিয়েছেন চার জন।

SIR West Bengal SIR Hasnabad Death Case
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy