E-Paper

উচ্ছেদে সরল ‘মৌয়ের কচুরি’, অনিশ্চয়তায় বহু

এদিন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে হাবড়া স্টেশন চত্বরে ‘মৌয়ের কচুরি’ খ্যাত তরুণী উদ্যোক্তা মৌ ওঝার নাম।

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১০:৪৪
হাবড়া স্টেশন।

হাবড়া স্টেশন। ফাইল চিত্র।

হাবড়া রেল স্টেশন চত্বরে সোমবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল কর্তৃপক্ষ। রেল পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ১ নম্বর রেলগেট থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত রেলের জমিতে থাকা দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। এরে জেরে কয়েকশো দোকান ভাঙা পড়ার পাশাপাশি রেলবস্তির বহু পরিবার কার্যত মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে।

এদিন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে হাবড়া স্টেশন চত্বরে ‘মৌয়ের কচুরি’ খ্যাত তরুণী উদ্যোক্তা মৌ ওঝার নাম। বাবার মৃত্যুর পর ২০২০ সালে কলেজে পড়ার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে ছোট্ট একটি কচুরির দোকান চালু করেছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই দোকানই হয়ে ওঠে তাঁর পরিবারের আয়ের প্রধান ভরসা। সামাজিক মাধ্যমেও পরিচিতি পায় তাঁর উদ্যোগ।

রেলের নোটিস পাওয়ার পর উচ্ছেদের আগেই নিজের দোকান সরিয়ে নিয়েছেন মৌ। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গিয়েছে। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কেউ জোর করে বসিনি। রেলের নোটিস পাওয়ার পর নিজেরাই সরে গিয়েছি। এতদিন ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য রেলের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। তবে আমার মতো যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, তাঁদের কথা কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত।”

মৌয়ের দাবি, উচ্ছেদের পর নতুন করে ব্যবসা শুরু করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর কথায়, “হঠাৎ করে হাবড়ায় দোকান ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। যে দোকানের ভাড়া আগে পাঁচ হাজার টাকা ছিল, এখন পনেরো হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে অগ্রিমও দিতে হবে। অনেকের পক্ষেই তা সম্ভব নয়।”

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে স্টেশন চত্বর ও রেলের জমি খালি করার নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জায়গা খালি না করলে রেল নিজেই উচ্ছেদ করবে বলেও জানানো হয়। এর পর অনেকেই নিজেদের দোকান ও কাঠামো সরিয়ে নিয়েছিলেন। সোমবার বাকি অংশ ভেঙে ফেলে রেল কর্তৃপক্ষ।

উচ্ছেদকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। হাবড়ার সিপিএম নেতা আশুতোষ রায়চৌধুরী বলেন, “আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। কিন্তু পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে তারপর উচ্ছেদ করা উচিত ছিল। রেল যে জমিকে নিজেদের দাবি করছে, তার নথিপত্রও প্রকাশ করা হয়নি। তাই এই উচ্ছেদ বেআইনি।”

অন্য দিকে হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল বলেন, “সিপিএম ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমেছে। ক্ষতিগ্রস্তরাও তাঁদের ডাকেননি। অধিকাংশ মানুষ স্বেচ্ছায় সরে গিয়েছেন। রেলের উন্নয়ন প্রয়োজন। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।”

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনেই নোটিস জারি করার পর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। রেলের জমি থেকে অবৈধ কাঠামো সরানো হয়েছে।

এ দিন উচ্ছেদের পর ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে ‘কমিউনিটি কিচেন’ চালু করল সিপিএম। দলের নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, উচ্ছেদ রোখা না গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকছে তাঁদের দল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Eviction Habra

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy