Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

কালীপুজোয় আজও জেগে ওঠে মন্দিরবাজারের শ্মশান

নিজস্ব সংবাদদাতা
বারুইপুর ১৩ নভেম্বর ২০২০ ১৬:৪৫
চলছে পুজোর প্রস্তুতি। —নিজস্ব চিত্র

চলছে পুজোর প্রস্তুতি। —নিজস্ব চিত্র

আদিগঙ্গার পাড়ে কয়েকশো বছরের প্রাচীন মন্দিরবাজারের দক্ষিণ বিষ্ণুপুর শ্মশান। এই শ্মশানেই আগে ভিড় জমাতেন তান্ত্রিক ও সাধকরা। শব সাধনায় বসতেন অনেকেই। এখনও শ্মশানে ঢুকলে গা ছমছমে পরিবেশ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, তান্ত্রিকদের সাধনার জোরে আজও রাতের অন্ধকারে জেগে ওঠে শ্মশান। ঘোরাফেরা করে অপঘাতে মৃতদের আত্মা। ১০৭ বছর আগে এই শ্মশান লাগোয়া জঙ্গলেই টালির ছাউনির নীচে কালী পুজো শুরু করেছিলেন তান্ত্রিক মণিলাল চক্রবর্তী। ১০৮টি নরমুণ্ড দিয়ে চলত তন্ত্রমতে দেবীর উপাসনা। সেই থেকেই শ্মশানে পূজিত হয়ে আসছেন মা করুণাময়ী কালী। শ্যামাকালী পুজোর দিন আজও এলাকার হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান এই মন্দিরে।

স্থানয়ীদের মুখে মুখে প্রচলিত আছে, তন্ত্রের দীক্ষা নিয়ে শ্মশানে সাধনা শুরু করেছিলেন ব্রাহ্মণ যুবক মণিলাল। কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্মশান লাগোয়া জঙ্গলের মধ্যে পুজো শুরু করেন তিনি। দেবী নিত্যপূজার ইচ্ছা প্রকাশ করলে পাকাপাকি ভাবে তৈরি করা হয় মন্দির। দেবী মূর্তির পিছনে বসানো হয় ১০৮টি নরমুণ্ড। সামনে পঞ্চমুণ্ডির আসন। এখানে তন্ত্র মতে দেবীকে পুজো দেওয়া হলেও কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ বলি। কালীপুজোর দিন মদ, কাঁচা মাংস ও ছোলা দিয়ে পুজো করা হয় ডাকিনী-যোগিনীকে। দেওয়া হয় শিয়াল ভোগও। গভীর রাতে মন্দিরের সেবাইত শ্মশান জাগানোর খেলায় মেতে ওঠেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

মণিলালের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর পুত্র সত্তরোর্ধ্ব শ্যামল চক্রবর্তী মন্দিরের দায়িত্ব সামলে আসছেন। তিনিই এখন প্রধান সেবাইত। শ্যামলবাবু জানালেন, ‘‘বাবার মৃত্যুর পর কাকা ফণীভূষণ চক্রবর্তীর কাছ থেকে তন্ত্রের শিক্ষা নিতে থাকি। তাঁরই হাত ধরে গুপ্তবিদ্যা নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু হয়। পরে করুণাময়ী মন্দিরে মায়ের নিত্য পূজা শুরু করি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন: পর পর ‘ইঙ্গিতবহ’ টুইট, এ বার কি শেষ পর্যন্ত সোমেন-পুত্রও মমতার তৃণমূলের পথে

আরও পড়ুন: রাজ্য জুড়ে সক্রিয়তা বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে, উৎসব শেষের আগেই শুরু ২০২১ সালের ‘নীলবাড়ির লড়াই’

কালীপুজোর আগে সেবাইত ও চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তুমুল ব্যস্ততা। দালানে পড়েছে নতুন রঙের পোঁচ। ঝাড়পোঁছ করা হচ্ছে নরমুণ্ডগুলি। তবে এ বছর করোনার কথা মাথায় রেখে ভক্তদের জন্য একাধিক নিয়ম বেঁধে দিয়েছে চক্রবর্তী পরিবার। মন্দিরে এক সঙ্গে ৫ জনের বেশি ঢুকতে দেওয়া হবে না। সবাইকেই মাস্ক পরার পাশাপাশি সঙ্গে রাখতে হবে স্যানিটাইজার। মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব বিধিও।

আরও পড়ুন

More from My Kolkata
Advertisement