E-Paper

মেলা শেষে ‘খুশি’ সরকার

চাকরিজীবনে প্রথম ডায়মন্ড হারবারে মহকুমাশাসক হয়ে এসেছিলেন আইএএস অফিসার অত্রি ভট্টাচার্য। বর্তমানে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদমর্যাদার অফিসার তিনি।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০০
মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে কিন্নর সাধুরা।

মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে কিন্নর সাধুরা। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য।

বিধানসভা নির্বাচনের বছরে গঙ্গাসাগর মেলাকে প্রচারে তুলে ধরতে, জৌলুসের প্রচারে চেষ্টার খামতি রাখেনি প্রশাসন। মেলা শেষের দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঘুরিয়ে ফের সেই বার্তা আরও এক বার তুলে ধরার চেষ্টাই চোখে পড়ল রাজ্যের মন্ত্রী এবং আধিকারিকদের তরফে। মেলা কলেবরে কত বড় হয়েছে, সে সব বলার পাশাপাশি রাজ্যের এক পদস্থ প্রশাসনিক কর্তা এই মেলার উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ চর্চা বা কেস স্টাডির কথাও বলেন। মেলার আয়োজন নিয়ে খুশি সরকার পক্ষের প্রতিনিধিরা।

চাকরিজীবনে প্রথম ডায়মন্ড হারবারে মহকুমাশাসক হয়ে এসেছিলেন আইএএস অফিসার অত্রি ভট্টাচার্য। বর্তমানে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদমর্যাদার অফিসার তিনি। অবসর আসন্ন। চাকরির বেলাশেষে গঙ্গাসাগরে এসে তাঁর স্মৃতিতে ১৯৯২ সালের মেলা। বলছিলেন, “১৯৯২ সালে চারটে সরকারি বাংলো ছাড়া আর কিছু ছিল না। হোগলা পাতার ছাউনিতে সবাইকে থাকতে হত। পানীয় জল ছিল না। সেখান থেকে এই মেলার আজকের চেহারা, আকাশ-পাতাল তফাত।” এমন মেলার আয়োজন ‘অধ্যয়ন’ বা ‘কেস স্টাডি’র বিষয় হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মেলার ভিড় নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দাবি, জনসমাগম এক কোটি ত্রিশ লক্ষ ছুঁয়েছে।

বুধবার সত্যিই ভিড় উপচে পড়েছিল মেলার মাঠে। বৃহস্পতিবার অবশ্য তত ভিড় ছিল না। আক্ষরিক অর্থেই ভাঙা মেলার চেহারা। তবে সকালে তুলনায় ভিড় ছিল। এ দিন দুপুর পর্যন্ত স্নানের তিথি থাকায় ভোরেও অনেক লোক এসেছিলেন। তার মধ্যেই ভোরে কাকদ্বীপের লট-৮ থেকে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীকে নিয়ে সাগরদ্বীপের দিকে আসার পথে এমভি-বুলবুল নামে একটি ভেসেল মুড়িগঙ্গার চরে আটকে যায়। কনকনে ঠান্ডায় যাত্রীদের ওই ভেসেলে ঘণ্টা দুয়েক আটকে থাকতে হয়। পরে যন্ত্রচালিত একাধিক ছোট নৌকা পাঠিয়ে ভেসেল থেকে যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়। পরে জোয়ার এলে আটকে পড়া ভেসেলটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। স্নান সেরে বুধবার রাত থেকেই অনেক পুণ্যার্থী ফেরার পথ ধরেছিলেন। তাতে বাস পেতে সমস্যা হয়েছিল। ভিড়ের জন্য পুণ্যার্থীদের অনেকে রাতের দিকে রাস্তার দু’পাশে ঠান্ডার মধ্যে মাঠেই ঘুমিয়ে পড়েন। একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে পরে তাঁদের কাছে খাবার এবং জল পৌঁছে দেওয়া হয়। ভিড় সামলাতে মেলার মাঠে পুণ্যার্থীদের প্রবেশ সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।

মেলায় প্রযুক্তিগত ভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি এবং বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা থাকা সত্ত্বেও ভিড় নিয়ন্ত্রণের সমস্যার জন্য পুণ্যার্থীদের একাংশ সরকারি স্তরে সমন্বয় এবং পরিকল্পনার অভাবকেই দুষেছেন।‌ যদিও অব‌্যবস্থার অভিযোগ মানতে চাননি রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, “মেলা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

gangasagar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy