এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন ভোটার রয়েছেন মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ জেলায়। কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নূরের দাবি, এর ফলে অবাধ এবং স্বচ্ছ নির্বাচন হওয়া কার্যত অসম্ভব। দুই জেলায় বিবেচনাধীন ভোটাররা যত দিন না ভোটার হিসাবে গণ্য হচ্ছেন, তত দিন ভোট না-করার পক্ষপাতী প্রাক্তন সাংসদ। তিনি জানান, প্রয়োজনে ভোট বয়কট করবে কংগ্রেস। এ ব্যাপারে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে আবেদন জানাবেন তিনি। যদিও সদ্য তৃণমূল থেকে ফের কংগ্রেসে ফিরে আসা মৌসমের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
সোমবার দক্ষিণ মালদহ কেন্দ্রের সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করেন মৌসম। সেখানে বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা ধরে তিনি বলেন, ‘‘যে পরিস্থিতি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, এতে ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন’ (অবাধ এবং স্বচ্ছ নির্বাচন) হবে না। এই পরিস্থিতিতে যদি ভোট করতে হয়, আমি আমাদের লিডারশিপকে (নেতৃত্ব) বলব ভোট বয়কট করা উচিত। কারণ, এতে অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট হবে না।’’ তিনি জানান, বিষয়টি রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গেকে জানাবেন।
মৌসমের জেলা মালদহে নতুন প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩। জেলায় ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন। সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৩ জন ভোটার। যার মধ্যে খসড়া তালিকাতেই বাদ গিয়েছিলেন ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৭৩ জন। অর্থাৎ, নতুন করে বাদ গিয়েছে ১৮ হাজার ২৮০ জনের নাম। মালদহে শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন ১০ লক্ষ ৩ হাজার মানুষ। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভোটার শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদ জেলায় বিবেচনাধীন ১১ লাখ ১১ হাজার ৪৫৪ জন। রাজ্যে বিবেচনাধীন ভোটার সংখ্যা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন। কলকাতা হাই কোর্টের নিযুক্ত বিচারকেরা ওই ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজ করছেন। নথি যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরে ‘যোগ্য’ ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকা যুক্ত হবে। মৌসমের বক্তব্য, বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম সঠিক ভাবে ভোটার তালিকায় যত ক্ষণ না উঠবে, তত ক্ষণ কংগ্রেসের নির্বাচন বয়কট করা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, ‘‘এই প্রসেস (প্রক্রিয়া) যদি না হয়, ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন’ হবে না।’’
আরও পড়ুন:
বিবেচনাধীন ভোটার নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস একটি বিবৃতি দিয়েছিল। তাতে এসআইআর-কে ‘ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করে তারা। বলা হয়, ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’র নামে ‘বিবেচনাধীন’ নামগুলিকে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মূল ভোটার তালিকায় না-রেখে প্রকারান্তরে বিজেপি-কে পিছনের দরজা দিয়ে জেতানোর ষড়যন্ত্র চলছে। তবে মৌসমের ‘ভোট বয়কট’ মন্তব্য নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর বলেন, ‘‘উনি কী কথা বলেছেন, না জানা পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য নয়। ভারতে নির্বাচন হয় দেশের মানুষকে নিয়ে। সেখানে এসআইআরে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদ করে এই কথা বলে থাকতে পারেন মৌসম। মানুষের হয়ে কথা বলা যে কোনও কংগ্রেস কর্মীর কর্তব্যও। আমরা আজই কমিশনে গিয়ে নিজেদের দাবি জানিয়ে এসেছি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘এটা তো লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নয়, পলিটিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি।’’