তারাতলায় কারখানার ছাদ ভেঙে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ভাটপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণা চৌধুরীর। বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছোতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা। শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকা জুড়ে। খবর শোনার পরই প্রতিবেশী ও পরিজনেরা ভিড় জমান মৃতের বাড়িতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কৃষ্ণা পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তাঁর রোজগারেই চলত সংসার। দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যেরা। স্বাভাবিক ভাবেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তাঁরা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভাটপাড়ার পূর্বাশা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের দাবি, মৃতের পরিবারের পাশে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত দাঁড়ানো উচিত। তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল বেশ কিছু দিন ধরে। গুদামের কয়েক তলা উঁচু ছাদ বুধবার বেলার দিকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। অনেক শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন।
ভেঙে পড়া গুদামঘরের আশাপাশের এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ জানাচ্ছেন, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। এই ঘটনায় বুধবার রাত পর্যন্ত পাঁচ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। জখম ২০ জন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।