প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিবাদের জেরে স্ত্রীর সামনেই এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানা এলাকার জুলপিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটাগ্রামে। নিহতের নাম অর্জুন দলুই (৩১)। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এক জায়গায় কয়েক জন প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দিতেন অর্জুন। সোমবার সকালে ওই যুবকেরা অভিযোগ তোলে, এলাকার একটি বাড়ির দরজা ভেঙে দিয়েছেন অর্জুন। তাঁর স্ত্রী আয়নামণি এলাকারই কয়েকটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। সোমবার দুপুরে আয়নামণি বাড়ি ফেরার সময়ে ওই যুবকেরা তাঁর কাছেও দাবি করে, অর্জুন একটি বাড়ির দরজা ভেঙে দিয়েছেন। তাই তাঁকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। এ কথায় ভয় পেয়ে গিয়ে অর্জুনের স্ত্রী বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার জন্য ওই যুবকদের অনুরোধ করেন।
এর পরে বাড়ি ফিরে স্বামীকে দরজা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন আয়নামণি। অর্জুন দাবি করেন, তিনি কোনও দরজা ভাঙেননি। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।সে দিন বিকেলের পরে অর্জুনকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী ওই যুবকদের কাছে যান। কিন্তু সেখানে কোনও মীমাংসার বদলে অর্জুনকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ আয়নামণির। তদন্তকারীরা জানান, মারের চোটে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে অর্জুনের।
মঙ্গলবার সকালে আয়নামণি বলেন, ‘‘অভিযোগকারী ওই যুবকদের কাছে আমার স্বামীকে নিয়ে গিয়েছিলাম মীমাংসার জন্য। কিন্তু সেখানে মীমাংসার কোনও কথাই হয়নি। উল্টে, ১০-১২ জন মিলে আমার স্বামীকে মাটিতে ফেলে পেটাতে শুরু করে। আমি বেশ কয়েক বার আটকাতে গিয়েছিলাম। তখন আমাকেও মারধর করে ওরা। কিছু ক্ষণ মারধর খাওয়ার পরে উনি সংজ্ঞা হারান। আমি একটি সাইকেল ভ্যান নিয়ে গিয়ে ওঁকে মাটি থেকে তোলার চেষ্টা করি। তখন ওই যুবকের দল ফের আমাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। আমার চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দা ছুটে আসেন। আমার স্বামীকে অচৈতন্য অবস্থায় সাইকেল ভ্যানে তোলা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা ওঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অর্জুনকে দরজা ভাঙার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মেরে ফেলা হয়েছে।’’
আয়নামণির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে বিষ্ণুপুর থানা সূত্রের খবর। যদিও ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তেরা ফেরার বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে, তাদের চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের পরিজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)