E-Paper

মেলায় ধাক্কা লাগা নিয়ে বচসা, যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ

মৃত যুবক তন্ময় সরকার (২৮) ঘোলা অপূর্বনগরের বাসিন্দা। গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে পানিহাটি উৎসব ও মেলায় গানের অনুষ্ঠান দেখতে তিন বন্ধুর সঙ্গে এসেছিলেন তিনি। অভিযোগ, ভিড়ে নাচানাচির সময়ে মত্ত অবস্থায় থাকা এক দল যুবকের সঙ্গে তন্ময়দের বচসা বাধে। অন্য দর্শকদের মধ্যস্থতায় তখনকার মতো ঝামেলা মেটে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৬

—প্রতীকী চিত্র।

গানের অনুষ্ঠান চলার সময়ে নাচানাচি করছিলেন দর্শকেরা। সেখানে পরস্পরের মধ্যে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। অভিযোগ, পরে মেলার বাইরের গলিতে তুলে নিয়ে গিয়ে এক পক্ষের এক যুবককে বেধড়ক মারধর করে অপর পক্ষ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে বুধবার রাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর পরিবার খুনের অভিযোগ দায়ের করে। শাসকদলের স্থানীয় বিধায়ক নির্মল ঘোষের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত পানিহাটি উৎসবে ঘটা এই ঘটনার দায় কার, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

বিরোধীদের দাবি, প্রতি বছরই এই উৎসবে কোনও না কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এর আগে মহিলা পুলিশকর্মীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া কয়েক জনকে এ বার মঞ্চে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে বলেও অভিযোগ বিরোধীদের।

মৃত যুবক তন্ময় সরকার (২৮) ঘোলা অপূর্বনগরের বাসিন্দা। গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে পানিহাটি উৎসব ও মেলায় গানের অনুষ্ঠান দেখতে তিন বন্ধুর সঙ্গে এসেছিলেন তিনি। অভিযোগ, ভিড়ে নাচানাচির সময়ে মত্ত অবস্থায় থাকা এক দল যুবকের সঙ্গে তন্ময়দের বচসা বাধে। অন্য দর্শকদের মধ্যস্থতায় তখনকার মতো ঝামেলা মেটে। কিন্তু মেলা থেকে বেরোনোর সময়ে বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে পড়া তন্ময়কে ধরে একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে এলোপাথাড়ি লাথি, ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ।

এর পরে কোনও মতে বাড়ি পৌঁছে বমি করতে শুরু করেন তন্ময়। প্রথমে তাঁকে পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্থানান্তরিত করা হয় সাগর দত্ত হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করা হয় তন্ময়কে। সেখানেই মারা যান তিনি। তাঁর মা গঙ্গা সরকার বলেন, ‘‘মঞ্চের পিছনের গলিতে ফেলে ছেলেটাকে মারধর করা হল, কেউ কিছু করলেন না।’’ শাসকদল আয়োজিত মেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবক থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে এক যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ব্যারাকপুরের এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।’’ বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেন, ‘‘উৎসবের মাঠে বিধায়ক-সহ অন্যান্য নেতা ও পুলিশের সামনেই কয়েক বছর ধরে বিশৃঙ্খলা হয়ে আসছে। এই মৃত্যুর দায় উৎসব কমিটিকেই নিতে হবে।’’ নির্মল বলেন, ‘‘ওই দিন লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়েছিল। মেলার মধ্যে কিছু হয়েছে বলে জানা নেই। বাইরে কারও সঙ্গে কিছু ঘটলে তার দায় কমিটির নয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Death Panihati

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy