Advertisement
E-Paper

জঙ্গলে উৎপাত চোরাশিকারিদের, নালিশ বন দফতরের

সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া কিংবা মধু সংগ্রহ করতে না গিয়ে যাতে মানুষজন বিকল্প কর্মসংস্থান বেছে নেন, সে জন্য গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বন দফতর।

প্রসেনজিৎ সাহা 

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২০ ০১:৫০
ফাইল চিত্র

ফাইল চিত্র

মৎস্যজীবীদের ভেক ধরে গত কয়েক মাস ধরে সুন্দরবনের জঙ্গলে চোরা শিকারিদের আনাগোনা বেড়েছে বলে দাবি বন দফতরের। চোরাশিকারিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করার জন্য সুন্দরবনের জঙ্গলে ও নদী-খাঁড়িতে প্রতিনিয়ত টহলদারি চালাচ্ছেন বনকর্মীরা। শুধু জানুয়ারি মাসেই এ রকম তিনটি দলকে গ্রেফতার করেছেন সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের কর্মীরা। ধৃতদের বিরুদ্ধে বনপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে মামলাও দায়ের হয়েছে।

সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া কিংবা মধু সংগ্রহ করতে না গিয়ে যাতে মানুষজন বিকল্প কর্মসংস্থান বেছে নেন, সে জন্য গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বন দফতর। সুন্দরবনের পর্যটন থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দিয়ে সেলাই মেশিন থেকে শুরু করে হাঁস, মুরগি, ছাগল-সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়ে এই জঙ্গল নির্ভর মানুষদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে বন দফতর। কিন্তু তবুও কিছু মৎস্যজীবী মাছ, কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল, নদী, খাঁড়িতে প্রতিনিয়ত পাড়ি দিচ্ছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতিপত্র নিয়ে মৎস্যজীবীরা গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়াই মাছ, কাঁকড়া ধরতে যাচ্ছেন অনেকে। বন দফতরের দাবি, এই মৎস্যজীবীদের আড়ালে কিছু চোরাশিকারিও প্রবেশ করছে জঙ্গলে। জঙ্গলের মধ্যে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারই তাদের মূল লক্ষ্য।

বন দফতর সূত্রের খবর, সুন্দরবনের কোর এলাকায় মাছ, কাঁকড়া ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই মৎস্যজীবীরা কোর এলাকায় মাছ-কাঁকড়া ধরতে ঢুকে পড়েন। শুধু নদী-খাঁড়িতে ঢুকে পড়াই নয়, জঙ্গলে নেমে কাঁকড়া ধরেন। অনেক সময়ে বাঘের আক্রমণের মুখে পড়েন। এর ফলে একদিকে যেমন মৎস্যজীবীদের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে, তেমনি অন্য দিকে বাঘ-সহ অন্য বন্যপ্রাণীরাও আক্রান্ত হয় মৎস্যজীবীদের হাতে।

সেই সঙ্গে আছে চোরা শিকারিদের উৎপাত। সপ্তাহখানেক আগে একটি দলকে সুন্দরবনের নেতিধোপানি জঙ্গলের কাছে হরিণ শিকারের ফাঁদ সহ ধরে ফেলেন বনকর্মীরা। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের সহকারি ক্ষেত্র অধিকর্তা অনিন্দ্য গুহ ঠাকুরতা বলেন, “ধরা পড়া চারজনের মধ্যে আশুতোষ মণ্ডল ও সুশান্ত সর্দার নামে দু’জন চোরাশিকারের সঙ্গে যুক্ত। জঙ্গলে হরিণ ধরার ফাঁদ পেতে এরা খাঁড়ির মধ্যে নৌকো নিয়ে অপেক্ষা করছিল। বনকর্মীরা টহলদারির সময়ে এদের ধরে। জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় হরিণ শিকারের ফাঁদ।’’ সকলেই মৎস্যজীবীদের ভেক ধরেই জঙ্গলে ঢুকেছিল বলে দাবি বন দফতরের।

২ জানুয়ারি নেতিধোপানি জাতীয় উদ্যান এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে প্রচুর পরিমাণে গরান কাঠ কাটার অভিযোগে গ্রেফতার হয় কয়েক জন। ৮ জানুয়ারি আরও ছ’জনকে সুন্দরবনের বাঘমারা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে বন দফতর। ধৃতেরা সকলে বাংলাদেশি। তাদের কাছ থেকে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রচুর মাছ উদ্ধার হয়। তা ছাড়া, বিভিন্ন ধরনের ধারাল অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। যা দেখে বন দফতরের অনুমান, মাছ ধরার পাশাপাশি জঙ্গলে শিকারের উদ্দেশ্যও ছিল সকলের।

এপ্রিল মাসে সুন্দরবনের পীরখালির জঙ্গলে হরিণ ধরার ফাঁদে আটকে মৃত্যু হয়েছিল এক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের। বন দফতরের দাবি, সেই ঘটনায় জড়িত ছিল মৈপীঠ কোস্টাল এলাকার কয়েক জন মৎস্যজীবী।

ঝড়খালি মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতা বিধান বায়েন অবশ্য বলেন, ‘‘মৎস্যজীবীরা পেটের টানে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জঙ্গলে যান। চোরাশিকারিদের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই।’’ পাশাপাশি তাঁর দাবি, ‘‘বন দফতরের নজর এড়িয়ে কারা এ সব কাণ্ড ঘটাচ্ছে, তা আমাদেরও জানা নেই।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy