পেরিয়ে গিয়েছে ৪৮ ঘণ্টা। অথচ, সন্দেশখালিতে পুলিশের উপরে হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত, শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ মুসা মোল্লাকে রবিবার রাত পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, সব রকম উপায়ে মুসাকে ধরার চেষ্টা চলছে। সে পলাতক। মুসার বিরুদ্ধেও জমি দখলের বহু অভিযোগ সামনে আসছে।
শুক্রবার রাতে একটি জমি দখলের তদন্তেই সন্দেশখালির বয়ারমারি ২ পঞ্চায়েতের চুঁচুড়ায় গিয়ে আক্রান্ত হন ন্যাজাট থানার তিন পুলিশকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছিল পুলিশের গাড়ি। ন’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও মুসা ধরা না পড়ায় গ্রামবাসীদের আতঙ্ক যাচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ, দু’বছর আগে শাহজাহান (নিলম্বিত, জেলবন্দি তৃণমূল নেতা) ধরা পড়ার পরেও জমি দখল চালিয়ে যাচ্ছিল মুসা। এ বার পুলিশ আক্রান্ত হওয়ায় তাঁদের নিরাপত্তা কোথায়, এ প্রশ্ন তুলছেন গ্রামবাসী।
গ্রামবাসীদের মধ্যে নাসির মোল্লা ও সাজেদ আলি মোল্লার খেদ, ‘‘এখানে দুষ্কৃতীরা ধরাকে সরা মনে করে। নির্ভয়ে থাকার কথা ভাবতে পারি না। দীর্ঘদিন এখানে আছি। আগে এমনটা ছিল না সন্দেশখালি।’’ নির্মল মণ্ডল নামে আর এক গ্রামবাসী বলেন, ‘‘মুসা আমার প্রায় ১৪ বিঘা জমি দখল করে মেছোভেড়ি বানিয়েছিল। থানাতে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু হয়নি।’’
২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার তদন্তে সন্দেশখালির আকুঞ্জিপাড়ায় গিয়ে আক্রান্ত হন ইডি আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। অভিযোগ ওঠে শাহজাহানের অঙ্গুলি হেলনেই হামলা করে তার লোকজন। ওই বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি শাহাজাহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পরে একের পর এক গ্রামবাসী শাহজাহান ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা, হুমকি, নির্যাতনের অভিযোগ তুলতে থাকেন। তবে, তাঁরা ভেবেছিলেন, শাহজাহান গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় শান্তি ফিরবে। কিন্তু শাহজাহান বাহিনী এখনও দাপট দেখিয়ে চলেছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
চুঁচুড়ার বাসিন্দা সামসুল মোল্লা বলেন, ‘‘শাহজাহান জেলে থাকায় মুসার দৌরাত্ম্য অনেক বেশি এখন। সে সব সময় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঘোরে। যে জমিতে নজর পড়ে, মেছোভেড়ি বানানোর জন্য সে জমি তার চাই-ই।’’ কিছুদিন আগে বরাত জোরে গাড়ি দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া শাহজাহানের বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআইয়ের মামলার অন্যতম সাক্ষী, তৃণমূল নেতা ভোলানাথ ঘোষও বলেন, ‘‘মুসারা এলাকায় এতটাই সক্রিয় যে যা খুশি তাই করতে পারে। এদের উপযুক্ত শাস্তি দরকার।"
পুলিশ মানছে, মুসার বিরুদ্ধে আগেও জমি দখলের অভিযোগ হয়েছে থানায়। সেই সব অভিযোগেরও তদন্ত চলছিল বলে পুলিশের দাবি। তবে, গ্রামবাসীদের একাংশ মনে করছেন, পুলিশ শক্ত হাতে আগেই ব্যবস্থা নিলে তাদের আক্রান্ত হতে হত না। বয়ারমারি ২ পঞ্চায়েতের প্রধান নমিনাল হক মোল্লা ও উপপ্রধান আকবর গাজির সঙ্গে এই মুসার সম্পর্ক নিবিড় বলে পুলিশকে স্থানীয়েরাই ঘটনার পরে জানান। পুলিশ ওই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদও করে। প্রধান ও উপপ্রধান দু’জনেরই দাবি, ‘‘আমরা জড়িত নই এই ঘটনায়। পুলিশ ডেকেছিল। তদন্তের স্বার্থে আমরা পুলিশকে সাহায্য করেছি।’’ তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো বলেন, ‘‘পুলিশের গাড়ির উপরে আক্রমণ মানা যাবে না। পুলিশ ইতিমধ্যেই ধরপাকড় শুরু করেছে।’’
এ দিন মুসার সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। চুঁচুড়ায় তাঁর বাড়িও ছিল তালাবন্ধ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)