মাছ কিনে ফেরার পথে লরির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক বধূর। ঘটনায় আহতহয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর স্বামী। বুধবার সকালে সাজিরহাট মাছ বাজারের কাছে ঘটনাটি ঘটে। মৃতার নাম নাজমা বিবি (৩১)। তাঁর স্বামীর নাম আনসুর আলি (৪০)। পুলিশ সূত্রের খবর, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও স্ত্রীকে সাইকেলের পিছনে বসিয়ে আনসার সাজিরহাট সোদপুর রোডের বাজারে মাছ কিনতে যাচ্ছিলেন।
সাজিরহাট কালভার্টের সামনে একটি সিমেন্ট বোঝাই লরি পিছন থেকে সাইকেলে ধাক্কা মারলেনাজমা ডান দিকে পড়ে যান। মহিলাকে পিষে দিয়ে বেরিয়ে যায় লরিটি। তাঁর স্বামী বাঁ দিকে পড়ে যান। পরে লরিটি আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে চালককে। ধৃতের নাম মণীশ কুমার, তিনি বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা। গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। ওই দম্পতি ঘোলা থানার মুড়াগাছা মোড়লপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের একটি মেয়ে ও দু’টি ছেলে রয়েছে।
ঘটনাস্থলের কাছে সাজিরহাট মাছের আড়ত এবং একটি বেসরকারি বাসের স্ট্যান্ড। বিকট শব্দ ও আর্তনাদ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় লোকজন। তাঁরাই মহিলাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে পানিহাটি স্টেট জেনারেলহাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসকেরা নাজমাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইবধূর স্বামীকে গুরুতর জখম অবস্থায় ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর হাত, পা ও মাথায় আঘাত লেগেছে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান ট্র্যাফিক এবং নিউ ব্যারাকপুর থানার পুলিশ। এই দুর্ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
চলতি বছরের ১৯ মে সাজিরহাট সোদপুর রোডে এপিসি কলেজের গেটের সামনে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৮০ বছরের বৃদ্ধ দিলেশ্বর সাহার। পাঁচ মাসের মাথায় ফের সাজিরহাট সোদপুর রোডে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। বার বার দুর্ঘটনা হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের একাংশের অভিযোগ, ভোর থেকে সাজিরহাট-সোদপুর রোডে মাছের ব্যবসা চলে। রাস্তায় চলে আসে সেই কেনাবেচা। ফলে যাতায়াতেও অসুবিধা হয়। চালকদের একাংশের নিয়ম না মানার প্রবণতাও রয়েছে। রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রেও রয়েছে সচেতনতার অভাব। অবিলম্বে সেখানে পর্যাপ্ত ট্র্যাফিক ব্যবস্থা এবং নজরদারির প্রয়োজন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)