চিনের সশস্ত্রবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক তথা শি জিনপিং ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধেই দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের গোপন তথ্য আমেরিকায় পাচার করার অভিযোগ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, সম্ভবত সেনা অভ্যুত্থানেরও সলতে পাকাচ্ছিলেন জিনপিঙেরই ডানহাত বলে পরিচিত লিউ ঝেনলি। খবর ফাঁস হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জিনপিঙের ঘরে সিঁধ কাটতে গিয়ে ধরা পড়া শীর্ষ সেনা আধিকারিককে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে, শুরু হয়েছে তদন্ত। জানা গিয়েছে, আর এক অন্যতম শীর্ষ সেনা আধিকারিক ঝাং ইউশিয়াও এই ‘চক্রান্তে’ শামিল ছিলেন। তিনিও অবশ্য জিনপিং-বাহিনীর হেফাজতে কি না, তা জানা যায়নি।
ঝাং ইউশিয়া। ছবি: রয়টার্স।
ঝাংয়ের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, কোটি কোটি ইউয়ান ঘুষ নিয়ে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন নাগরিককে। চিনের সামরিক বাহিনীর মুখপত্র ‘পিএলএ ডেইলি’-র তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে লিউ ও ঝাংয়ের কার্যকলাপ ছিল কমিউনিস্ট পার্টি বিরোধী। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, ২০১২ সালে শি চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সর্বেসর্বা হওয়ার পর থেকেই সে দেশের সেনাবাহিনী যাতে দলের অনুশাসন মেনে কাজ করে, সে দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন:
লিউ ঝেনলি। ছবি: রয়টার্স।
ঝাংকে তদন্তের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা গেলেও লিউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দু’জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকারের শাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল ও কলঙ্কিত করে তোলার চেষ্টার। সেনাহাহিনীর ঐক্যে ‘ফাটল’ ধরানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। এই সবের নেপথ্যে ‘ক্ষমতার লোভ’কেই দায়ী করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সরকারি আদেশে বর্তমানে চিনের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্তর কার্যত ‘ফাঁকা’। মনে করা হচ্ছে, শীঘ্রই জিনপিং সেনাবাহিনীর খোলনলচে বদলে ফেলবেন।