জল্পনা শুরু হয়েছিল চার দিন আগে। নিহত পিতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের উত্তরসূরি হিসাবে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত হওয়ার পরেই। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য সান’ দাবি করল, মার্কিন হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন মোজ়তবা খামেনেই। নিহত আয়াতোল্লার ৫৬ বছর বয়সি পুত্র একটি পা হারিয়েছেন। তাঁর যকৃতেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, মোজ়তবা বর্তমানে রাজধানী তেহরানের সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গোটা হাসপাতাল ভবনটিকে কড়া নিরাপত্তা-বেষ্টনীতে ঘিরে রাখা হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মহম্মদ রেজা জাফরগজ়ানির নেতৃত্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছে। প্রসঙ্গত, মোজ়তবা নতুন নেতা মনোনীত হওয়ার পরে গত ৯ মার্চ ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে তাঁকে ‘জানবাজ় অফ রমজ়ান’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। আর তার পর থেকেই খামেনেই-পুত্রের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা ছড়ায়। কারণ, ওই শব্দবন্ধের অর্থ হল ‘একজন আহত অভিজ্ঞ সেনাপতি’।
আরও পড়ুন:
বুধবার অবশ্য বুধবার সেই সব জল্পনায় জল ঢেলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়কশিয়ানের পুত্র ইউসুফ পেজ়েকশিয়ান দাবি করেছিলেন, দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ এবং সুস্থ আছেন। কিন্তু তেহরানের এক চিকিৎসকের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউসুফের সেই দাবি নস্যাৎ করল ব্রিটিশ সংবাদপত্রটি। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানের উপর ইজ়রায়েল ও আমেরিকার বিমান হামলা (যার পোশাকি নাম যথাক্রমে ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’) চালিয়েছিল। মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, ৮৬ বছরের খামেনেইয়ের। সেই সময়ই গুরুতর জখম হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী খোজাস্তেহ বাঘেরজ়াদেহ। সোমবার তাঁরও মৃত্যু হয়। ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, মোজ়তবার স্ত্রী জ়াহরা এবং আট বছরের পুত্র বাঘেরও ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। তবে মোজ়তবাও ২৮ ফেব্রুয়ারি একই হামলায় আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।