ইরান নৌসেনায় যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস বুশেহ্র’ শ্রীলঙ্কার বন্দরে আশ্রয় নিয়েছে বলে গত শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু কলম্বো মঙ্গলবার জানাল, তাদের জলসীমায় থাকলেও শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ।
সরাসরি ‘আইআরআইএস বুশেহ্র’-এর নাম না করে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভার মুখপাত্র বলেন, ‘‘শেষ পর্যন্ত এটিকে সরিয়ে নেওয়া হবে।’’ এর আগে গত ৭ মার্চ শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছিল, ইরানি যুদ্ধজাহাজটির ১৫ জন ক্রু সদস্য (আধিকারিক এবং নাবিক) এখন শ্রীলঙ্কার নৌঘাঁটিতে রয়েছেন। ‘আইআরআইএস বুশেহ্র’-এ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তা মেরামতে ইরানের নৌ-ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তা করছে শ্রীলঙ্কার নৌসেনা। সেই মেরামত শ্রীলঙ্কার জলসীমায় হচ্ছে কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি কলম্বো।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ ভোরে ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানি রণতরী ‘আইআরআইএস ডেনা’-র উপরে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে টর্পেডো ছুড়ে ইরানের যুদ্ধজাহাজটিকে ধ্বংস করে দেয় মার্কিন ডুবোজাহাজ। ভারতীয় নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে বিশাখাপত্তনমে একটি মহড়ায় অংশ নিতে নিরস্ত্র অবস্থায় গিয়েছিল ডেনা। মার্কিন টর্পেডোর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিহত ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৩২ জনকে। কিন্তু এখনও প্রায় ৬০ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। আশঙ্কা, তাঁরা সকলেই নিহত হয়েছেন। যে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা এখন ভর্তি রয়েছেন শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে বন্দর শহর গলের এক হাসপাতালে।
এরই মধ্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, ভারত মহাসাগরে আসা তৃতীয় ইরানি রণতরী ‘আইআরআইএস লাভান’-এর অবস্থান নিয়ে। সংবাদসংস্থা পিটিআই-সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেটি এখন কেরলের কোচি বন্দরে রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। ইরানের উপর আমেরিকার এবং ইজ়রায়েলের হামলা চলাকালীন ১৮৩ জন ক্রু সদস্য (জাহাজের আধিকারিক এবং নাবিক)-সহ ‘আইআরআইএস লাভান’ যুদ্ধজাহাজটি ৪ মার্চ কোচিতে নোঙর করে এবং মানবিক কারণে তাদের ভারতীয় নৌঘাঁটিতে রাখা হয়েছে বলে জানান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে বর্তমানে সেটি কোথায় অবস্থান করছে, তা অজানা। ১ মার্চ তেহরানের তরফে এ সংক্রান্ত অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল নয়াদিল্লিতে। ঘটনাচক্রে, তার আগের দিনই ইরানে শুরু হয়েছিল যৌথবাহিনীর হামলা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
১১:৩৯
পশ্চিম এশিয়ায় জোরদার হামলা ইরানের! ২১ মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান, আবার অশান্ত লেবাননও -
০৯:৫৯
সেনা নয়, হরমুজ়ে ভেঙে পড়া কপ্টারের পাইলটদের বাঁচাতে এ বার আমেরিকার নয়া ‘অবতার’-এর অভিযান! কী ভাবে উদ্ধার? -
মার্কিন আইনসভায় জোর ধাক্কা ট্রাম্পের! ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষমতা ‘খর্ব’ করতে প্রস্তাব পাশ, দ্রুত বাহিনী সরানোর নির্দেশ
-
মোজতবা জীবিতই, শান্তিচুক্তির আলোচনাতে যোগও দিচ্ছেন! দাবি রুবিয়োর, ইরানের উপর বিধিনিষেধ কি তুলবেন ট্রাম্প?
-
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?