পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার এবং পাইপের মাধ্যমে গ্যাস পরিবহণ খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে সক্রিয় হল। এলপিজি উৎপাদন, সিএনজি এবং পাইপে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস ব্যবহারকারীদের এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে ভারতে গ্যাস সরবরাহের ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে আমদানি করা গ্যাস অগ্রাধিকারহীন খাত থেকে সরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারকারীদের দিকে পাঠাতে হবে।
আরও পড়ুন:
ভারত প্রতি দিনের ১৯.১ কোটি আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার) গ্যাস ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রায় ৬০ আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার) গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তেল ও গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নতুন ভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে এলপিজি উৎপাদন, সিএনজি এবং পাইপে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস (পিএনজি)-এর চাহিদার ১০০ শতাংশ, জ্বালানিটির বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের ৮০ শতাংশ এবং সার কারখানাগুলির চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণে বরাদ্দ করা হয়েছে। অগ্রাধিকারের তৃতীয় স্থানে রয়েছে চা শিল্প, উৎপাদন খাত এবং অন্যান্য শিল্প গ্রাহক— যাদের গত ছ’মাসের গড় গ্যাস ব্যবহারের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখা হবে। অগ্রাধিকারের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রাখা হয়েছে সব সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (সিজিডি) সংস্থাকে, যারা শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করে।
মন্ত্রকের এক শীর্ষকর্তা বলেন, “আমরা মিনিটে মিনিটে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরিবর্তিত প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন। মূল খাতগুলোর পূর্ণ চাহিদা মেটাতে আমরা এখনই গ্যাস বরাদ্দের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করেছি। এই পুনর্বণ্টন মূলত এলপিজি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য করা হয়েছে, কারণ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধে রান্নার গ্যাসের অর্ধেক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তা চাপে পড়েছিল।’’ প্রসঙ্গত, এলপিজি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তৈরি হয় এবং অশোধিত তেল পরিশোধনের একটি উপজাত হল এলপিজি। প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাস আলাদা করে বিশুদ্ধ করার পর সেগুলোকে চাপ দিয়ে তরল অবস্থায় রাখা হয়, যাতে সহজে পরিবহণ ও সংরক্ষণ করা যায়। সাধারণত বাড়ি ও রেস্তোরাঁয় রান্নার জন্য ব্যবহৃত ইস্পাত সিলিন্ডারে তা পরিবহণ করা হয়।
তেল মন্ত্রকের গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নতুন নির্দেশ এলএনজি বিক্রির জন্য থাকা সব বকেয়া চুক্তি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে প্রয়োজনে অগ্রাহ্য করবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘উৎপাদিত গ্যাস গত ছ’মাসের প্রকৃত গড় ব্যবহারের ভিত্তিতে একটি অগ্রাধিকার তালিকা অনুযায়ী বরাদ্দ করা হবে।’’ প্রচলিত উৎস থেকে এলপিজি উৎপাদন সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছোনোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার আগে থেকেই তেল শোধনাগারগুলিকে পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদন আপাতত স্থগিত রেখে এলপিজির উৎপাদন বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছে। ওই কর্তা বলেন, “এই পদক্ষেপগুলির ফলে উৎপাদনে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মূল চুক্তিগুলি পুনর্বহাল করা হবে।’’ তিনি জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থা গেল (গ্যাস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড)-কে অগ্রাধিকার-ক্রম কার্যকর করে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৯:০২
পাকিস্তানে ফের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত আমেরিকা-ইরান, তবে প্রথম বারের দুই নেতাই বাদ! কোন দেশ কাকে সরাল? কেন? -
পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী! আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার দরজা কি খুলবে?
-
মাথায় দাম ৯৪ কোটি টাকা! পাকিস্তানে দ্বিতীয় বৈঠকের আগে মার্কিন নিশানায় ইরানের ঘনিষ্ঠ জঙ্গিনেতা
-
‘ফুটবল’ খুলতে চেয়ে শীর্ষ সেনাকর্তার সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কি! ইরানে পরমাণু হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন ট্রাম্প?
-
যুদ্ধবিরতির মাঝেই ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তিপ্রদর্শন ইরানের! সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ নামলেন রাস্তায়