একই তেলে লুচি ভেজেছেন সকালে, সেই তেলে ভেজেই দুপুরে খেলেন মাছ, রাতে তেলের অবশিষ্টাংশ লেগে গেল তরকারি রাঁধতে। উচ্চ তাপে তেল বার বার গরম করলে ক্ষতিকারক ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হয়ে তা শরীরে নানা ক্ষতি করে। তাই এক বার ব্যবহারের পর অবশিষ্ট তেল আর ব্যবহার করা উচিত নয় রান্নায়। কিন্তু তা বলে ফেলে দেবেন না। তাতে জিনিসের অপচয় বাড়বে। একাধিক উপায়ে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহার করতে পারেন কড়াইয়ে পড়ে থাকা তেল।
তবে তার আগে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যে তেল থেকে পোড়া গন্ধ আসছে, রং খুব গাঢ় হয়ে গিয়েছে বা ধোঁয়া উঠছে, সেই তেল আর কোনও ভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। নয়তো রান্না করা তেল ছেঁকে নিতে হবে, যাতে খাবারের টুকরো পড়ে না থাকে। তার পর একটি শিশিতে ভরে রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে ব্যবহার করে নেবেন।
পড়ে থাকা তেল দিয়ে কী ভাবে ঘরোয়া কাজ করবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত
কোন কোন উপায়ে কাজে লাগাবেন ব্যবহার করা তেল?
১. আসবাব পালিশ: কাঠের টেবিল, চেয়ার বা অন্য আসবাব ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফিকে হয়ে যাচ্ছে? সামান্য ব্যবহৃত তেল কাজে লাগানো যেতে পারে এ ক্ষেত্রে। একটি নরম কাপড়ে অল্প তেল নিয়ে কাঠের উপর আলতো করে ঘষলে অনেক সময়ে খানিক জেল্লা ফিরে আসে।
২. জং ছাড়ানো: তালা, গেট, কাঁচি অথবা লোহার ছোটখাটো জিনিসে জং ধরে গেলে সেগুলি ব্যবহার করা মুশকিল হয়ে যায়। সেখানে অল্প তেল ঢেলে দিলে অনেক সময়ে সহজে কাজ করতে পারে সেগুলি। তা ছাড়া তেল ওই জিনিসগুলির উপরে সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতার প্রভাব কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। পরবর্তীতেও মরচে পড়ার ঝুঁকি কমে যেতে পারে।
৩. স্টিকার সরানো: অনেক সময়ে জার, বোতল ইত্যাদির উপরে এমন ভাবে কাগজ সেঁটে থাকে, যা ওঠানো যায় না। অথবা ওঠালেও অল্প অল্প কাগজ থেকে যায়। লেবেলের পুরো অংশ সরাতে ওই তেল ব্যবহার করতে পারেন। অল্প একটু তেল মাখিয়ে রেখে দিতে হবে বোতলে। খানিক ক্ষণ পরে নরম কাপড় দিয়ে মুছলে কাগজের টুকরো উঠে আসবে।