মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা এবং তার সরকারের শক্তিসচিব ক্রিস রাইটের একটি এক্স-বার্তার জেরে মঙ্গলবার সকাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু সেই দাবির অসারত্ব সামনে আসার পরেই আবার তেলের বাজার চড়তে শুরু করেছে। বুধবার অশোধিত তেলের দাম ‘ফিউচার ট্রেডে’ (পরবর্তী সপ্তাহগুলির জন্য) চলতি মাসের জন্য ব্যারেল প্রতি ৪৬০ টাকা বেড়ে ৭৮৮১ টাকায় পৌঁছেছে।
এপ্রিল মাসের ফিউচার ট্রেডে দাম ব্যারেল প্রতি ৪৬২ টাকা বেড়ে ৭৮১৫ টাকায় পৌঁছেছে। প্রসঙ্গত, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সামরিক অভিযান শেষের পথে। সেই সঙ্গেই তাঁর ইঙ্গিত ছিল, যুদ্ধজয়ের পরে নিহত আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দেশের তেলক্ষেত্রগুলির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। সেই আবহে মঙ্গলবার সকালে মার্কিন শক্তিসচিব ক্রিস এক্স পোস্টে লিখেছিলেন, “মার্কিন নৌবাহিনী সফল ভাবে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে নিরাপদে নিয়ে গিয়েছে।’’
আন্তর্জাতিক বাজারে যাতে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি করেন তিনি। পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিয়োও দেওয়া হয়। মার্কিন শক্তিসচিবের ওই ঘোষণার পরেই অশোধিত তেল, ডিজ়েল ও গ্যাসোলিনের ফিউচারস নেমে যায়। শেয়ারের দাম বাড়তে শুরু করে। কিন্তু এর পরেই আসে নতুন মোড়। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে মার্কিন নৌসেনার পাহারায় কোনও তেলবাহী ট্যাঙ্কার যাতায়াত করেনি। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই ক্রিসের ওই পোস্টটি তাঁর এক্স হ্যান্ডল থেকে উধাও হয়ে যায়। ট্রাম্প সরকার জানায়, শক্তি দফতরের এক কর্মীর ভুলে বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে ভিডিয়োয়। ওই পদক্ষেপের পরিণতিতে আবার আন্তর্জাতিক বাজারে চড়তে শুরু করে তেলের দাম।