Advertisement
E-Paper

খোলা আকাশের নীচেই চলছে শ্যামের সংসার

গত বর্ষায় ধসে গিয়েছিল ঘরবাড়ি। পঞ্চায়েত থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বাড়ি সারানোর টাকা পাওয়া যাবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:১৯
ভাঙাচোরা গেরস্থালি। ছবি: শান্তশ্রী মজুমদার।

ভাঙাচোরা গেরস্থালি। ছবি: শান্তশ্রী মজুমদার।

গত বর্ষায় ধসে গিয়েছিল ঘরবাড়ি। পঞ্চায়েত থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, বাড়ি সারানোর টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু বর্ষা পেরিয়ে শীত ফেরার সময় এগিয়ে এলেও বাড়ি সারানোর আর্থিক সাহায্য পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন কাকদ্বীপের অসংখ্য প্রান্তিক মানুষ। প্রশাসন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তালিকা জেলা সদরে পাঠানো হয়েছে। অনুদান এলেই দেওয়া হবে।

কাকদ্বীপ মহকুমার ৪টি পঞ্চায়েত সমিতি থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নামের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতগুলির মাধ্যমে। কাদের বাড়ি গত বছরের বর্ষায় আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে— সেই তালিকা জোগাড় করে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে গত অগস্টে পাঠানোও হয়েছিল বিডিও অফিসগুলিতে। কিন্তু এখনও টাকা হাতে পাননি বেশিরভাগ মানুষ।

স্বামী বিবেকানন্দ পঞ্চায়েতের শিবপুর ১ ঘেরির কৃষিশ্রমিক শ্যাম মণ্ডল বলেন, ‘‘৭ জনের পরিবার। যা আয় করি পেট ভরতেই চলে যায়। তাই আর ঘর সারাতে পারিনি। কিছু টাকা সরকার থেকে দেবে বলেছিল। সেটা পেলে ঘর সারাতে পারতাম।’’ ওই পঞ্চায়েতের অধীনে ২০টি গ্রাম থেকে প্রায় সাড়ে চারশোজনের নামের তালিকা জমা করা হয়েছিল বিডিও অফিসে। পঞ্চায়েতের প্রধান রিনা দাস মান্না বলেন, ‘‘আমরা যে তালিকা দিয়েছিলাম, সেই তালিকা মেনে এখনও ঘর পায়নি মানুষ। কেন দেরি হচ্ছে বুঝতে পারছি না।’’

শুধু কাকদ্বীপই নয়, নামখানা, সাগর পাথরপ্রতিমা সমস্ত এলাকাতেই এ ভাবে ভেঙে যাওয়া ঘর সারানোর টাকা দেওয়ার আশ্বাস নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন মানুষ। ঘর সারানোর টাকা না পেয়ে অনেকে নিজেদের মতো করে ধার-দেনা করেও ব্যবস্থা করে নিয়েছেন। কাউকে কাউকে আবার স্রেফ হোগলা পাতা, ছেঁড়া ত্রিপল দিয়ে আচ্ছাদন তৈরি করে শীতের রাত কাটাতে হচ্ছে।

নামখানা পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত এলাকা মৌসুনি দ্বীপেরও অবস্থা খুবই খারাপ। এখানে ঘর ভেঙে যাওয়া মানুষের তালিকা হাজারের কাছাকাছি। পঞ্চায়েত প্রধান শেখ ইলিয়াস বলেন, ‘‘অনেক দিন হয়ে গেল শীতের মধ্যে খুব কষ্ট পেতে হচ্ছে বলে বার বার মানুষ এসে জানাচ্ছেন। আর কত দেরি হবে জানি না।’’ প্রধান জানালেন, মৌসুনী দ্বীপে বাড়ির চেয়েও বেশি সমস্যা নদীবাঁধ। সেটা নিয়ে কেউ ভাবছে না। ফের বর্ষায় ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিরোধীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। সিপিএমের কাকদ্বীপ জোনাল কমিটির সম্পাদক মৃতেন্দু ভুঁইয়া বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার দ্রুত প্রকল্প রূপায়ণ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা প্রচার করছে। অথচ শাসকদলের নেতারা ইচ্ছে মতো তালিকা পাঠাচ্ছেন। এ ভাবে সাধারণ মানুষকে ঠকানো হচ্ছে।’’ যদিও এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে তৃণমূল সূত্রে। এলাকার তৃণমূল নেতারা জানিয়েছেন, সব তালিকাই গ্রাহ্য করে পাঠানো হয়েছে।

কাকদ্বীপের মহকুমাশাসক রাহুল নাথ বলেন, ‘‘আমরা পঞ্চায়েত সমিতিগুলি থেকে যে তালিকা পেয়েছিলাম, তা পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের কাছে। অনুদানের টাকা এলে বিলি করা শুরু হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy