এ বার দেবরাজ চক্রবর্তীকে লক্ষ্য করেও চলল ডিম-বর্ষণ। যদিও ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলরের গায়ে ডিম পড়েনি। সেই ডিম গিয়ে পড়ল পুলিশের গাড়িতে। পুলিশকর্মীদের উর্দিতেও লাগে ডিম। এই উত্তেজনার মাঝেই মাথায় টুপি পরে আদালতের ভিতরে ঢুকে যান দেবরাজ।
বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলরকে যে বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে হাজির করানো হবে, সেই খবর আগেই ছড়িয়ে গিয়েছিল। আদালত চত্বরে ভিড়ও জমিয়েছিলেন কৌতূহলী জনতা। তাঁদের মধ্যে ডিম হাতে অপেক্ষা করছিলেন অনেকে। পুলিশের গাড়ি দেবরাজকে নিয়ে আদালত চত্বরে পৌঁছোতেই উত্তেজনা ছড়ায় সেখানে। পুলিশের গাড়ির দিকে ধেয়ে আসে একের পর এক ডিম।
দেবরাজকে নিয়ে যখন পুলিশের গাড়ি আদালত চত্বরে পৌঁছোয়, তখন প্রহরা ছিল চোখে পড়ার মতো। গাড়ির জানালার কাচ বন্ধ করে রেখেছিলেন পুলিশকর্মীরা। তার মধ্যেই ডিম উড়ে আসতে থাকে চতুর্দিক থেকে। এ সবের মধ্যে কোনও রকমে দেবরাজকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশকর্মীরা। তত ক্ষণে পুলিশের গাড়ির বনেটে, ছাদে বেশ কয়েকটি ডিম পড়ে গিয়েছে। পুলিশকর্মীদের উর্দিতেও ডিম গিয়ে লাগে।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের বিভিন্ন নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম-বর্ষণে ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার যাতে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে তৎপর ছিল পুলিশ। পুলিশের এমন ‘কড়া’ নিরাপত্তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আইনজীবীদের একাংশও।
আরও পড়ুন:
বারাসত আদালতের এক আইনজীবী মিলি বিশ্বাস বলেন, “এরা তো আসামি। এরা চুরি করেছে। কাটমানি খেয়েছে। আসামিদের আজ প্রোটেকশন দিচ্ছে। এমন নিরাপত্তা দিয়ে এদের কোর্টে আনা হচ্ছে, যেগুলো দৃষ্টান্তমূলক।” তিনি আরও বলেন, “বড় মাপের চোরকে এখানে ধরে আনা হয়েছে। সেই চোরকে প্রোটেকশন দেওয়ার জন্য পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে।”
ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে হাই কোর্টে। মঙ্গলবার হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। এই ধরনের ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করছে, তা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দেবরাজকে আদালতে হাজির করানোর সময়ে পুলিশের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
দেবরাজের স্ত্রী সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সী তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগে দেবরাজ এবং অদিতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তরিত করেছেন রাজারহাট-গোপালপুরের তৎকালীন বিধায়ক অদিতি এবং তাঁর স্বামী।
বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর দেবরাজ এলাকায় প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। দম্পতির বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি, তা গোপন করা এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি কম করে দেখানোর অভিযোগও উঠেছে অদিতির বিরুদ্ধে।