ব্লক যুব তৃণমূল নেতাকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে দীর্ঘ ন’মাস এলাকা ছাড়া ছিলেন তিনি। অবশেষে জামিন পেয়ে এলাকায় ফিরলেন ভাঙড় ১ (এ) ব্লক তৃণমূল সভাপতি কাইজার আহমেদ। ভাঙড় ১ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষও তিনি। স্ত্রী জেলা পরিষদের সদস্য। মঙ্গলবার সকালে ভাঙড়ে ফেরেন কাইজার। কয়েক হাজার অনুগামী ফুল, মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নেয় তাঁকে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে এ দিন দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান কাইজার। বলেন, ‘‘যুব তৃণমূলের কর্মীরা চক্রান্ত করে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে এলাকা ছাড়া করেছিলেন। আমার অনুগামীদের ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পেটানো হয়েছিল। দল আমার পাশে সে ভাবে দাঁড়ায়নি।’’ তবে ব্যক্তিগত ভাবে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী ও যুব তৃণমূলের সভাপতি শওকত মোল্লা সহযোগিতা করেছেন বলেও জানিয়েছেন কাইজার। এ দিন এলাকায় ফিরেই কাইজার নলমুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন।
গত বছর ৩০ মে ঘটকপুকুরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বোমাবাজি হয়। ওই ঘটনায় ভাঙড় ১ (এ) ব্লক যুব তৃণমূলের সভাপতি বাদল মোল্লা, তৃণমূল নেতা আয়নাল মোল্লা-সহ ৮ জন জখম হন। বাদলকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে কাইজার আহমেদ-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গ্রেফতারি এড়াতে আত্মগোপন করেন কাইজার। সোমবার বারুইপুর আদালতে তিনি ওই মামলায় জামিন পান।
ভাঙড়ের রাজনীতিতে কাইজার বরাবরই আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত। ব্লক যুব সভাপতি বাদল মোল্লার সঙ্গেও তাঁর তিক্ত সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত। ভাঙড়ে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তোপ দেগেছেন আরাবুল। এ নিয়ে কী মত কাইজারের?
তিনি বলেন, ‘‘বহিরাগত প্রার্থী নিয়ে ভাঙড়ের মানুষের ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। ভাঙড়ে কি কোনও শিক্ষিত, যোগ্য ব্যক্তি নেই প্রার্থী হওয়ার মতো? আসলে দল মনে করেছে, তাই বাইরে থেকে একজন চিকিৎসককে প্রার্থী করেছে। আমি নিজেও দাবিদার ছিলাম। কিন্তু চক্রান্ত করে আমাকে এলাকা ছাড়া করা হয়েছিল।’’
তিনি কি দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে নামবেন?
এ প্রশ্নের উত্তরে কাইজার বলেন, ‘‘আমি কী করব, তা দলের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব। ন’মাস যখন বাইরে ছিলাম, তখন প্রয়োজনে আরও এক মাস বাইরে থাকব।’’
তবে কি দল ছাড়তে চাইছেন?
কাইজারের জবাব, ‘‘দু’একদিনের মধ্যে আমি কী সিদ্ধান্ত নিই, তা সকলকে জানিয়ে দেব।’’
এ দিকে আরাবুল ইসলামও দলের টিকিট না পেয়ে ক্ষুব্ধ। দল ছাড়বেন বলে জল্পনা তৈরি হয়। বহিরাগত প্রার্থীকে ভাঙড়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন তাঁর অনুগামীরা। দলের একটি সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় ডেকে কথা বলেন আরাবুলের সঙ্গে। তারপর থেকে খানিকটা সুর নরম করেছেন আরাবুল। দল ছাড়বেন কিনা, এ প্রশ্ন করা হলে আরাবুল বলেন, ‘‘এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’’ অভিষেকের সঙ্গে দেখা করা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। — নিজস্ব চিত্র