Advertisement
E-Paper

চাহিদা থাকা সত্ত্বেও মিলছে না ভাল দাম

দেগঙ্গা চিরাচরিত চাষে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার জেরে ক্ষতি এড়াতে বিকল্প হিসাবে পরীক্ষামূলক ভাবে অনেকে চাষ শুরু করেছিলেন। পরে বাজারে চাহিদা দেখে অনেকেই নিয়মিত ভাবে শুরু করেছিলেন, ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধাকপি, স্ট্রবেরি’র মতো বাণিজ্যিক মরসুমি ফসলের চাষ।

বিতান ভট্টাচার্য ও সজল চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৩৭
কেমন ফলেছে লাল বাঁধাকপি, দেখছেন চাষি। দেগঙ্গায় নিজস্ব চিত্র।

কেমন ফলেছে লাল বাঁধাকপি, দেখছেন চাষি। দেগঙ্গায় নিজস্ব চিত্র।

দেগঙ্গা চিরাচরিত চাষে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার জেরে ক্ষতি এড়াতে বিকল্প হিসাবে পরীক্ষামূলক ভাবে অনেকে চাষ শুরু করেছিলেন। পরে বাজারে চাহিদা দেখে অনেকেই নিয়মিত ভাবে শুরু করেছিলেন, ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধাকপি, স্ট্রবেরি’র মতো বাণিজ্যিক মরসুমি ফসলের চাষ। কিন্তু চাহিদা থাকলেও সেই ফসলের উপযুক্ত দাম তাঁরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করলেন চাষিরা।

সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় কৃষিমেলায় রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুর কাছে এই অভিযোগ জানালেন চাষিরা। তাঁরা জানান, আবহাওয়ার খামখেয়ালিতে চিরাচরিত রবি ও খরিফ শস্যের চাষে তেমন সুবিধা হচ্ছিল না তাঁদের। কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শে এই ধরনের সব্জি চাষে নামেন। এর বাজারও ভাল। প্রথম প্রথম তাঁরা সরাসরি কলকাতায় সব্জি নিয়ে যেতেন। তাতে দাম মিলত ভাল। কিন্তু নিয়মিত ভাবে ফসল কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিক্রির ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। তার উপর স্থানীয় ভাবে বড় বাজার নেই যেখানে তাঁরা তাঁদের মাল বেচবেন। তারই সুযোগ নিয়ে ফড়েরা তাঁদের কাছ থেকে সমস্ত সব্জি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। সমস্যার কথা চিন্তা করে তাঁরাও তাতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু বাজারে তাঁদের ফসলের ভাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সেই অনুপাতে ফড়েদের কাছে দাম মিলছে না।

কৃষিমন্ত্রীকে তাঁদের দেওয়া খতিয়ান অনুযায়ী, একটি ব্রকোলি ফড়েদের কাছে দিয়ে মাত্র ১০ টাকা দাম মেলে। অথচ বাজারে তা বিক্রি হয় ২০ থেকে ২২ টাকায়। লাল বাঁধাকপির ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু একটি লাল বাঁধাকপি বাজারে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়। একটি চাইনিজ ক্যাবেজ মাত্র ১২টাকা দামেই ফড়েদের দিয়ে দিতে হয়। অথচ বাজারে তার দাম ২৫-৩০ টাকা। তাঁদের প্রস্তাব, সরকার সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে ওই সব্জি কিনে নিলে তাঁরা ন্যায্য দাম পাবেন।

Advertisement

দেগঙ্গার দৈবঞ্জপোল গ্রামের চাষি সনাতন বিশ্বাস পরীক্ষামূলকভাবে এই সবজি চাষ শুরু করেছিলেন কয়েক বছর আগে। জেলায় সৌখিন সবজি চাষে তাঁর নাম রয়েছে। সনাতনবাবুর দাবি, ‘‘এক বিঘা জমিতে চার হাজার ব্রকোলি চারা লাগানো যায়। জৈব সার ও অন্য খরচ মিলিয়ে বিঘা প্রতি খরচ হয় দশ হাজার টাকা। কিন্তু এত টাকা খরচ করেও লাভের মুখ দেখতে পান না চাষিরা। চাষি ও বাজারের মধ্যে থাকা ফড়েরাই লাভের গুড় খেয়ে নেয়।’’

ওই গ্রামেরই বাসিন্দা প্রশান্ত মণ্ডল, ধরণী মণ্ডল ও বিশ্বনাথ মণ্ডল। তাঁরা পেশায় ফড়ে। চাষিদের কাছ থেকে ফসল কিনে নিয়ে গিয়ে কলকাতার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। কম দামে ফসল কেনার কথা তাঁরা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁদের কথায়, ‘‘চাষিদের কাছ থেকে বাজারের তুলনায় প্রায় সাত-আট টাকা কমে ওই সমস্ত সব্জিগুলি কিনি।’’

কলকাতার বিভিন্ন হোটেলে স্যালাড হিসাবে চাইনিজ ক্যাবেজ, খাবারের মেনুতে চেরি টম্যাটো ও পুষ্টি যুক্ত খাবারের তালিকায় ব্রকোলি ও লাল বাধাঁকপির চাহিদা রয়েছে। তা ছাড়া বিদেশেও এই ধরনের সব্জি রফতানির সুযোগ রয়েছে। লিয়াকত আলি, তারকচন্দ্র সরকার ও জয়দেব মাইতি বলেন, ‘‘আমরা ৬০-৭০ জন চাষি এই ধরনের সবজি চাষ করি। এ বার প্রায় ১২০০ বিঘা জমিতে ব্রকোলি চাষ হয়েছে। একটা সময় এগুলি নিয়ে চাষিরাই সরাসরি কলকাতার বাজারে যেতেন। কিন্তু বেশি সবজি নিয়ে যাতায়াতে অনেক সমস্যা। আস্তে আস্তে ফড়েরা গ্রামে এসে সরাসরি মাঠ থেকে ফসল কেনার প্রস্তাব দিল। কিন্তু এতে আমাদের লাভ হচ্ছে না। অথচ কাছাকাছি বড় বাজার নেই। তাই ফড়েদের দেওয়া দামেই ফসল বেচতে হচ্ছে।’’

বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার আশ্বাস দিয়ে পূর্ণেন্দুবাবু বলেন, ‘‘স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলব। যে সব চাষি এই ধরনের সবজি চাষ করছেন, তাঁরা সরাসরি কৃষি দফতরে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে আমি তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করব।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy