Advertisement
E-Paper

পেঁয়াজি হাওয়া, সন্ধের আড্ডা হবে কী করে

পেঁয়াজ নিয়েই পেঁয়াজি! পেঁয়াজের দরে আগুন, তাই পেঁয়াজিও আপাতত হাতছাড়া। ব্যারাকপুর-কল্যাণী শিল্পাঞ্চলের তেলেভাজার দোকানগুলিতে এক লাফে বেড়ে গিয়েছে পেঁয়াজির দাম।

বিতান ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৯ অগস্ট ২০১৫ ০১:৩৪
কবে ফিরবে এই চেনা ছবি। ছবি: সজল চট্টোপাধ্যায়।

কবে ফিরবে এই চেনা ছবি। ছবি: সজল চট্টোপাধ্যায়।

পেঁয়াজ নিয়েই পেঁয়াজি! পেঁয়াজের দরে আগুন, তাই পেঁয়াজিও আপাতত হাতছাড়া।

ব্যারাকপুর-কল্যাণী শিল্পাঞ্চলের তেলেভাজার দোকানগুলিতে এক লাফে বেড়ে গিয়েছে পেঁয়াজির দাম। পলতার ‘রিমঝিম তেলেভাজা’, জগদ্দলের ‘বোম্বাই চপ সেন্টার’ বা নৈহাটি আনন্দবাজারের তেলেভাজার দোকানগুলিতে এত দিন ১০ টাকায় পাঁচটি পেঁয়াজি মিলত। এখন মিলছে দু’টো। খদ্দেরদের যাতে হার্টফেল না হয়, তার জন্য বেসন গোলার সাইজ একটু বাড়ানো হয়েছে। ছোট দোকানে ফুলুরি, পকোড়া ও অন্য সব চপ পাওয়া গেলেও পেঁয়াজের ঝাঁঝ দূরের কথা, গন্ধটুকুও নেই।

শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন রেল স্টেশন, বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যায় প্রবীণদের আড্ডা বসে। সঙ্গে চপ-মুড়ি-পেঁয়াজি। এখন পকোড়া বা ফুলুরি পেঁয়াজির জায়গা নিয়েছে। কিন্তু তাতে মন উঠছে না কারও। শ্যামনগর স্টেশনের চার নম্বর প্লাটফর্মে সন্ধ্যার আড্ডায় প্রবীণ অমল পাল, সঞ্জয় রায়, প্রণব বিশ্বাসেরা বলেন, ‘‘দুধের স্বাদ কি ঘোলে মেটে? বয়স হয়ে গিয়েছে, এখন তেল চুপচুপে চপ-পকোড়া সহ্য হয় না। পেঁয়াজি-ফুলুরি একটু শুকনো হয়। কিন্তু ফুলুরিতে গোটাটাই বেসন, অম্বলের ধাত থাকলে বেশি খাওয়া যায় না। পেঁয়াজির কিন্তু তুলনা নেই। আর এই বর্ষাই তো পেঁয়াজি-মুড়ির আসল সময়।’’ দেশি মদের দোকানগুলিতে চাট হিসেবে পেঁয়াজির ভারি কদর। কিন্তু পেঁয়াজের দাম বাড়ায় সেই মহার্ঘ্য চাট এখন অমিল।

Advertisement

নৈহাটির প্রিয়নাথ হালদার, অমিয়তোষ রায়রা অবশ্য দমেননি। যেমন দমেননি কল্যাণী স্টেশনের কাছে আড্ডায় বসা ‘খাই খাই সংঘ’-এর সদস্যেরা। স্টেশনের পাশেই একগুচ্ছ তেলেভাজার দোকান। কিন্তু পেঁয়াজের দাম বাড়তেই পেঁয়াজি ভোজবাজির মতো ভ্যানিশ। তার বদলে বেগুনি, লটে, চিংড়ি, মোচা, সয়াবিনের চপ বিকোচ্ছে। তা সত্ত্বেও কিন্তু আড্ডায় পেঁয়াজি থাকছে। সদস্যেরা চাঁদা তুলে পালা করে বাড়িতেই ভাজছেন।

ফাঁপরে পড়েছেন তেলেভাজার দোকানিরাও। ব্যারাকপুর স্টেশনের কাছে দোকান অমিত সাহার। রোজ অন্তত দু’ঝুড়ি পেঁয়াজি বানাতেন। গত সোমবার থেকে পেঁয়াজি ভাজা বন্ধ শুধু দাম বাড়ার কারণে। অমিত বলেন, ‘‘পেঁয়াজের এখন যা দাম, পেঁয়াজি করলে এক-একটা অন্তত পাঁচ টাকায় বিক্রি করতে হবে। তাতে আমার বা ক্রেতার কারও লাভ হবে না। যদি বিক্রি না হয়, তা হলে তো আমারই লোকসান।’’ জগদ্দলে এক তেলেভাজার দোকানে রঞ্জিত সানা বলেন, ‘‘পেঁয়াজির চাহিদা বেশি থাকায় কম পেঁয়াজ দিয়ে পেঁয়াজি বানাচ্ছি। দাম তো বাড়াতে পারব না। তাতেই সব পেঁয়াজি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

পেঁয়াজের দাম বাড়লেও বাজারে পেঁয়াজ নেই তা কিন্তু নয়। তা হলে দাম বাড়ছে কেন? চাষিরা বছরের গোড়ায় পেঁয়াজ ওঠার পরে মাঠেই আট-দশ টাকা পাইকারি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছিলেন। আড়তদারেরা এখন সেই পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছেন ষাট-পঁয়ষট্টি টাকা দরে। যা বিক্রি হচ্ছে সত্তর থেকে আশি টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজি অমিল হওয়ায় যাঁরা আফশোস করছেন, তাঁদের অনেকের দাবি, বিষয়টিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা উচিৎ। প্রণববাবুরা বলেন, ‘‘প্রয়োজনে মহকুমাশাসকের কাছেও আমরা আর্জি জানাতে পারি। পেঁয়াজ তো পাওয়া যাচ্ছে। পেঁয়াজি কেন পাওয়া যাবে না?’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy