অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দেওয়া মিড ডে মিলের খিচুড়ি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল বেশ কয়েকজন শিশু। ঘটনাটি ঘটেছে কুলতলি ব্লকের মধ্য গুড়গুড়িয়া গ্রামের ১৫৪ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। খিচুড়ির মধ্যে পড়েছিল মরা সাপ। যা থেকে আতঙ্কও ছড়ায়। অনেকে অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। কয়েক জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় পঁচিশ বছর ধরে চলছে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি। বর্তমানে ৫০ জন শিশু, ৭ জন প্রসূতি ও ৮ জন গর্ভবতী মহিলা আসেন এখানে। গোটা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র দেখাশোনার জন্য রয়েছেন একজন মাত্র কর্মী। বহু বছর ধরে সহায়িকা পদটি খালি। অপুষ্টি দূর করতে ও স্কুল স্কুটের সংখ্যা কমাতে এই কেন্দ্রগুলি চালু হয়েছিল। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ওই কেন্দ্র থেকে শিশুদের মায়েরা খাবার নিতে এসেছিলেন। আরতি মাইতি তাঁর নাতি ও নাতনির জন্য খাবার নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ খাবার খুলে বাড়ির লোক খেতে শুরু করেন। সেই সময় দেখা যায় খিচুড়ির ভিতর সাপ পড়ে রয়েছে। এরপরেই তিনি সেই খিচুড়ি নিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চলে যান। ঘটনার খবর জানাজানি হওয়ার পরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। খবর যায় পুলিশ-প্রশাসনের কাছে। ব্লক প্রশাসন থেকে তিনটি গাড়ি পাঠিয়ে প্রায় ৬৫ জন শিশু, প্রসূতিকে জামতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনের বমি ও মাথা ঘোরা শুরু হয়। কয়েক জনকে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। বাকিদের পর্যবেক্ষণের জন্য রাত পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরেই রেখে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা আরতিদেবীর থেকে সাপ সহ- খিচুড়ি নিয়ে পুকুরে ফেলে দেন।
আরতীদেবী বলেন, ‘‘বাড়ির সকলে মিলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দেওয়া খিচুড়ি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ে খিচুড়ের ভিতরে প্রায় চার ইঞ্চি লম্বা কালো রঙের মরা সাপ। এরপরে বাড়ির প্রায় সকলেই অসুস্থ বোধ করে। কয়েকজন বমিও করে।’’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের যে খাবার দেওয়া হয় তার গুণগত মান মোটেও ভাল নয়। এই নিয়ে অনেক বার অভিযোগ জানানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ দিন অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
কেন্দ্রের কর্মী আরতি সিট বলেন, ‘‘প্রায় ৫-৬ বছর ধরে আমার কেন্দ্রে কোনও সহায়িকা নেই। একাই রান্না করতে হয় আবার পড়াতেও হয়। কেন্দ্রের কোনও নিজের বাড়ি নেই। এলাকার একটি বাড়িতেই কোনওক্রমে কেন্দ্রটি চলে। টিন ও খড়ের চালের ছোট রান্নাঘরেই রান্না হয়।’’ তিনি জানান,এ দিন খিচুড়ি, আলু ও কুমড়োর তরকারি ও মাথা পিছু অর্ধেক ডিমসিদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, ‘‘খিচুড়িতে সাপ কী করে এল, তা আমি জানি না।’’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কুলতলি ব্লকে প্রায় ৩০০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। বেশির ভাগের নিজের বাড়ি নেই। কোথাও ঠাকুরঘরের বারান্দা, কোথাও ক্লাবঘরে, আবার কোথাও খোলা আকাশের নীচে কেন্দ্রগুলি চলে। নেই পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থা।
কুলতলি ব্লকের ভারপ্রাপ্ত সিডিপিও অরবিন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। যা বলার বিডিও বলবেন।’’ জামতলা হাসপাতালে যান কুলতলির বিডিও বিপ্লব নাথ। তিনি বলেন, ‘‘পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাঁরাই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবেন। তবে হাসপাতালে যারা রয়েছে, তাদের প্রায় সকলেই সুস্থ।’’
এ দিন রাতে ঘটনাস্থলে যান প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, কুলতলির সিপিএম বিধায়ক রামশঙ্কর হালদার, কুলতলি ব্লক তৃণমূল সভাপতি গোপাল মণ্ডল। কান্তিবাবু বলেন, ‘‘শিশুরা সকলেই সুস্থ রয়েছে। তেমন কোনও সমস্যা নেই। কী কারণে এই ঘটনা ঘটল সেটা প্রশাসন দেখবে।’’