প্রতীক জৈন ছাড়াও আইপ্যাক সংস্থার আরও দু’জন ডিরেক্টর রয়েছেন। কয়লাকাণ্ডে কেন তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়নি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)? সোমবার এই প্রশ্নই তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে এ বার আইপ্যাক-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ আনলেন তিনিও।
সোমবার কলকাতার মিলনমেলা প্রাঙ্গনে ডিজিটাল কনক্লেভে অভিষেক আইপ্যাক-কাণ্ডের আবহে প্রথম বার অভিযোগ করেন, তৃণমূলের তথ্য চুরি করতেই প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। তিনি বলেন, ‘‘কয়লাকাণ্ডে তল্লাশি চালাতে এসেছিল ইডি। যে মামলায় গত তিন বছরে কাউকে কোনও সমন করেনি তারা। আসতেই পারে। কিন্তু ওদের উদ্দেশ্য ছিল তথ্য চুরি করা।’’ কেন তিনি এই কথা বলছেন, সেই যুক্তিও দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আইপ্যাকের তিন জন ডিরেক্টর। এক জন কলকাতায় বসেন, এক জন হায়দরাবাদে বসেন, এক জন দিল্লিতে। কেন বেছে বেছে কলকাতায় তল্লাশি চালানো হল। ডিরেক্টরের বাড়িতে যদি তল্লাশি হয়, কেন দফতরে যাবে ইডি?’’ অভিষেকের আরও প্রশ্ন, অন্য রাজ্যে আইপ্যাকের দফতরে কেন গেল না কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এর আগে শুক্রবার অভিষেক নদিয়ার তাহেরপুরের সভায় অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে সহায়তা করছে বলে ইডি হানার মুখে পড়েছে আইপ্যাক। তিনি বলেছিলেন, ‘‘তৃণমূলের জন্য একটা সংস্থা কাজ করে। এই ভোটে যাতে মানুষের অসুবিধা না-হয়, তারা তৃণমূলের জন্য একটা অ্যাপ তৈরি করেছে। ‘দিদির দূত’ বলে একটি অ্যাপ তৈরি করেছে আইপ্যাক বলে একটি সংস্থা। কিন্তু কেন তারা এসআইআরে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে, কেন গরিব মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে, (সে জন্য) ইডি পাঠিয়ে রেড করিয়েছে। আর সাধারণ মানুষের অধিকার ইসি (নির্বাচন কমিশন)-কে পাঠিয়ে হরণ করছে। আর ইডিকে পাঠিয়ে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে। তোমাদের সব আছে। কিন্তু মানুষ সঙ্গে নেই। আমাদের কিচ্ছু নেই। সঙ্গে মানুষ আছে।’’
এ বার অভিষেক তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রীর সুরেই অভিযোগ করলেন, দলের তথ্য চুরি করতেই প্রতীকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ইডি।
এর আগে তৃণমূল নেতাদের একাংশ জানিয়েছিলেন, যে মামলায় প্রতীকের বাড়ি ও আইপ্যাকের দফতরে ইডি তল্লাশি চালিয়েছে, তা ২০২০ সালের। তখন সংস্থার ডিরেক্টর ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। কেন তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হল না, সেই প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। জবাবে তাঁদের ব্যাখ্যা, বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী ভোট কেটে প্রশান্তের দল জনসুরাজ বিজেপি-কে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল। সে কারণে আইপ্যাকের প্রাক্তন ডিরেক্টরের বাড়িতে তল্লাশি চালায়নি ইডি।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা আইপ্যাকের দফতরে অভিযানের সময় তার বাইরে দাঁড়িয়ে জানান, ইডি তথ্য চুরি করতেই সেখানে এসেছে। অভিযান চলাকালীন প্রতীকের বাড়িতে গিয়ে তিনি সবুজ ফাইল এবং ল্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে আইপ্যাকের দফতরেও তিনি পৌঁছোলে রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মীরা সেখান থেকে কিছু ফাইল বার করে নিয়ে আসেন। মমতা জানান, সেগুলি তাঁদের ফাইল। ইডি দাবি করে, তাদের কাজে বাধা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইডি পরে বিবৃতি দিয়ে দাবি করে, নথিপত্র এবং বৈদ্যুতিন নথি-সহ ‘প্রমাণ’ নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে তারা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সেখানে মামলা মুলতুবি হয়ে গেলে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। তার আগে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করে রাজ্য সরকার। তাদের আর্জি, তল্লাশির ঘটনায় ইডি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলে তাদের জানাতে হবে। এই মামলায় কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে রাজ্যের বক্তব্যও শুনতে হবে সুপ্রিম কোর্টকে।
সোমবার অভিষেক দলের সর্বোচ্চ নেত্রীর অভিযানস্থল থেকে ফাইল আনার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করেননি। তবে তিনি বলেন, ‘‘ওরা যে ভাষায় কথা বলেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সে ভাষায় জবাব দিয়েছেন। অন্য রাজ্যে ধমকে চমকে দল বদল করানো হয়। এখানে সেটা পারেনি।’’ আর সেই সঙ্গেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূলের তথ্য চুরি করতেই আইপ্যাকের দফতর ও প্রতীকের বাড়িতে হয়েছিল ইডির অভিযান।