Advertisement
E-Paper

আইপ্যাক-কাণ্ডে ইডি মামলা করলে জানাতে হবে রাজ্যকে, শুনতে হবে বক্তব্যও! সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল রাজ্যের

অনেক মামলার ক্ষেত্রে এক পক্ষের বক্তব্য শুনেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়। কিন্তু ক্যাভিয়েট দাখিল হলে সে ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বক্তব্যই শুনতে হয় সুপ্রিম কোর্টকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৪
সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য সরকার। — ফাইল চিত্র।

সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শনিবার ক্যাভিয়েট দাখিল করে তাদের আর্জি, আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তল্লাশির ঘটনায় ইডি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলে তাদের জানাতে হবে। এই মামলায় কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে রাজ্যের বক্তব্যও শুনতে হবে সুপ্রিম কোর্টকে।

আইপ্যাক-কাণ্ডে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছে ইডি। সেই মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের আশঙ্কা, ইডি ওই মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে। সে কারণে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করল রাজ্য, যাতে সেখানে ইডির বক্তব্য একতরফা ভাবে না শোনা হয়। যদি ইডি মামলা করে, তা হলে দুই পক্ষের বক্তব্য যেন শোনা হয়, সেই জন্য দাখিল করা হল ক্যাভিয়েট। প্রসঙ্গত, অনেক মামলার ক্ষেত্রে এক পক্ষের বক্তব্য শুনেই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়। কিন্তু ক্যাভিয়েট দাখিল হলে সে ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বক্তব্যই শুনতে হবে সুপ্রিম কোর্টকে।

কয়লাকাণ্ডে বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্তা প্রতীকের বাড়ি এবং সংস্থার দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। ২০২০ সালে সিবিআই কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি এফআইআর করে। ওই এফআইআরের ভিত্তিতে পিএমএলএ ২০০২ অনুযায়ী তদন্ত শুরু করে ইডি। প্রায় ২,৭৪২ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের মামলায় তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের অভিযোগ, এই টাকার একটি অংশ হাওয়ালা মারফত আইপ্যাকের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, বিশেষত গোয়ায়। সেই মামলার সূত্রে দিল্লি ও কলকাতায় ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। তার মধ্যে ছিল প্রতীকের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভে সংস্থার দফতর।

ইডির দাবি, তাদের অনুমোদিত তল্লাশির সময় পুলিশের সাহায্য নিয়ে তাদের হেফাজত থেকে ‘অপরাধ সংক্রান্ত নথি’ নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশি চলার সময় ডিজিটাল ডিভাইস (ল্যাপটপ, মোবাইল, হার্ডডিস্ক), গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জোর করে পুলিশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি ইডির। ইডির মতে, এতে তাদের তদন্ত ‘বাধাপ্রাপ্ত’ হয়। ডিজিটাল ফরেন্সিক কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। ইডির আরও দাবি, তারা আইপ্যাকের দফতরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করলেও রাজ্য পুলিশের বাধায় কাজ করা যায়নি।

এই নিয়ে শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চায় তারা। পাল্টা হাই কোর্টে মামলা করে রাজ্য সরকারও। তৃণমূলের মামলা এবং ইডির মামলা, দু’টিই পিছিয়ে দিয়েছে হাই কোর্ট। ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি হয়। শুক্রবার ওই দু’টি মামলারই শুনানি হওয়ার কথা ছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে। কিন্তু আদালত কক্ষে প্রবল ভিড় হওয়ায় দু’টি মামলারই শুনানি আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করে দেন বিচারপতি ঘোষ। তার পর ইডি তাদের মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি নিয়ে প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি। শনিবার সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করল রাজ্য সরকার।

Supreme Court State Government West Bengal government
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy