Advertisement
E-Paper

ইডি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরে ইডির আইপ্যাক অভিযান নিয়ে মুখ খুললেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার, কী বললেন মনোজ?

গত বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে হানা দেয় ইডি। ওই দিনের ঘটনায় ইডির বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একটি কলকাতা পুলিশে। অন্যটি বিধাননগর পুলিশে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৭
কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। —ফাইল চিত্র।

ইডির আইপ্যাক অভিযানের চার দিন পর এ বার সে দিনের ঘটনা নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। জানালেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। বিষয়টি আদালতেও বিচারাধীন রয়েছে। তাই এ বিষয়ে এখনই কিছু মন্তব্য করা যাবে না।

গত বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে হানা দেয় ইডি। তার পর থেকে গত চার দিনে ঘটনাপ্রবাহে একের পর এক মোড় নিয়েছে। ইডির বিরুদ্ধে জোড়া অভিযোগ দায়ের হয়েছে পুলিশের কাছে। ইডিও সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে অভিযোগ জানিয়েছে তারা। আদালতে ইডির লিখিত বক্তব্যে সিপির বিষয়েও উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় ইডির আইপ্যাক অভিযান এবং সে বিষয়ে তদন্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন সিপি মনোজ।

সোমবার বিকেলে লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন পুলিশ কমিশনার। উদ্দেশ্য, পথসুরক্ষার সচেতনতায় হাফ ম্যারাথনের জার্সি প্রকাশ। লালবাজারের এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা তথা তৃণমূল সাংসদ দেবও। তবে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ছিল আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে ইডির তল্লাশির বিষয়ে সিপি মনোজ কোনও মন্তব্য করেন কি না। কারণ, গত বৃহস্পতিবার ইডির তল্লাশির সময়ে প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনিও।

পরে ওই তল্লাশির ঘটনায় মমতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’টি এফআইআর রুজু হয়েছে। তার মধ্যে একটি কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানায়। প্রতীকের বাড়ি এই এলাকাতেই। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকের শেষ পর্বে ইডির আইপ্যাক অভিযান নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করা হয় পুলিশ কমিশনারকে। জানতে চাওয়া হয়, ইডির তল্লাশির সময়ে কী খবর পেয়ে গিয়েছিল পুলিশ? ইডি তো অতীতেও বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কী এমন পরিস্থিতি হল যে ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়কে পর্যন্ত পৌঁছে যেতে হল সেখানে? সংক্ষিপ্ত উত্তরে সিপি বলেন, “আমি এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলতে পারব না। আমরা দু’টি কেস করেছি। দু’টি কেসেই তদন্ত হচ্ছে। এর বাইরে এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। হয়তো পরে অন্য কোনও দিন আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইব।”

সুপ্রিম কোর্টে মামলায় ইডির তরফে পুলিশের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ‘চুরি’ বা ‘ডাকাতি’র মতো শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় পুলিশ কমিশনারকে। পুলিশের বিষয়ে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি রয়েছে কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রেও তাঁর উত্তর, “বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। ওই বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাবে না।” পুলিশের প্রসঙ্গে এমন শব্দ প্রয়োগে আপত্তি আছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “আমি পড়িইনি কী লেখা আছে। আমি জানি না। শুধু শোনা কথার উপর মন্তব্য করা উচিত হবে না। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে। এর উপরে এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করা উচিত হবে না।”

আরও বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয় সিপিকে। দু’টি অভিযোগের তদন্তের কী অবস্থা? জানতে চাওয়া হলেও উত্তর সেই সংক্ষিপ্তই। বললেন, “তদন্ত চলছে। এটাই বলার।” কাউকে ডাকা হয়েছে বা নোটিস করা হয়েছে? তাতেও উত্তর এল, “বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে বলা ঠিক নয়।” পুলিশের কাছে কি গত বৃহস্পতিবারের ঘটনা সম্পর্কে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও তথ্য ছিল? এ ক্ষেত্রেও সিপির উত্তর, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে। আমাদের রিপোর্ট দিতে হবে। আমার মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে ওই সব ডিটেল্‌স না বলাই ভাল।” বৃহস্পতিবার কেন পুলিশকে যেতে হল, তা নিয়েও ফের এক বার প্রশ্ন করা হয় সিপিকে। তখনও তাঁর উত্তর সেই একই, “যেহেতু বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আছে, এ বিষয়ে ডিটেল এখানে বলা উচিত হবে না।” নবান্নে বা অন্য কোথাও কি পুলিশের তরফে কোনও রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে? তাতেও সরাসরি কোনও উত্তর এল না। সিপি মনোজ বললেন, “আমরা আইনি প্রক্রিয়া যা যা করণীয় তা করছি।”

সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ এ-ও জানায়, কলকাতায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু গত বছর অনেকটা কমেছে। গত বছরে মোট ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে সিপি জানান, আগের তুলনায় গত বছরে পথ দুর্ঘটনা অনেক কমেছে এবং তা আরও কমাতে হবে। পথসুরক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধিতে কলকাতা পুলিশের প্রশংসা করেন দেবও।

Kolkata Police Enforcement Directorate IPAC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy