সিপিএম ছেড়ে আসা তরুণ নেতা প্রতীক-উর রহমানকে পাশে নিয়ে ফের একবার রাজনীতিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমার প্রসঙ্গ তুলে দিলেন অভিষেক। সেই সঙ্গে এ-ও বলে দিলেন, তিনি কত দিন রাজনীতিতে থাকবেন তার নিশ্চয়তা নেই।
বিধানসভা ভোটের প্রার্থিতালিকা চূড়ান্ত করতে যখন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব প্রায় শেষ পর্য্যায়ের কাজ করছেন, তখন অভিষেকের ‘বয়সের ঊর্ধ্বসীমা’ সংক্রান্ত পুনর্মন্তব্য অর্থবহ বলে মনে করছেন অনেকে। তৃণমূলেরই অনেকে আবার মনে করছেন, এর সঙ্গে বিধানসভা ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। সাধারণ ভাবে অভিষেক যা মনে করেন, অতীতেও বার বার তিনি যে প্রসঙ্গ তুলেছেন, সেটা প্রসঙ্গক্রমেই আবার উঠে এসেছে তাঁর মন্তব্যে। এক নবীন বামনেতাকে দলে বরণ করতে গিয়ে।
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় যোগদান কর্মসূচিতে বলতে গিয়ে আরও এক বার নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের রাজনীতিতে আসার আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেই প্রসঙ্গেই অভিষেক বলে ওঠেন, ‘‘কত দিন আমি রাজনীতি করব আমি জানি না। আর দলে তো আমি একটা ঊর্ধ্বসীমার কথা বলেছি। আমি আমার উদাহরণ তৈরি করব। আমি আমার সাধ্যমতো নতুনদের সুযোগ করে দেব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘মানুষ যত দিন বাঁচে, তত দিন তো রাজনীতি করে না। তাকে তো অন্য কিছুও করতে হতে পারে। তবে কালকেই ছেড়ে দিচ্ছি (রাজনীতি) সেটা ভাবার কোনও প্রশ্ন নেই।’’
এ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহরণ দেন তিনি। বলেন, ‘‘আমাদের নেত্রীও চান নতুনদের সামনে আনতে। যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে সংসদে পাঠানো হয়েছে। আমি যখন ২০১৪ সালে প্রথম সাংসদ হলাম, তখন আমার বয়স ছিল ২৬। গত লোকসভা নির্বাচনে আমরা দেবাংশু ভট্টাচার্যকে লোকসভায় প্রার্থী করেছিলাম।’’ অভিষেক এ-ও মনে করিয়ে দেন, একটা দল চলে নতুন এবং পুরনোর মিশেলেই।
আরও পড়ুন:
বয়স হওয়ার মানে স্বচ্ছতাকে বিদায় দেওয়া। বাংলা গানে নতুন জোয়ার আনা সঙ্গীতকার একটা ‘বোধহয়’ রেখে এই কথা উচ্চারণ করেছিলেন দশক তিনেক আগে। ঘটনাচক্রে তিনিও অভিষেকের দলেরই প্রাক্তন সাংসদ। অভিষেকের কথাতেই গত লোকসভা ভোটের আগে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বে আলোড়িত হয়েছিল তৃণমূল। অভিষেকের বয়সবিধির তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছিলেন সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। সৌগতের উক্তি ছিল, ‘‘রাজনীতিতে মনের বয়সটাই আসল।’’ পাল্টা অভিষেকের ব্যাখ্যা ছিল, একজন ৩০ বা ৪০ বছর বয়সে যে ভাবে ছোটাছুটি করে কাজ করতে পারেন, বয়সটা ৬০ বা ৬৫ হয়ে গেলে সেটা তিনি পারেন না। পরিস্থিতি এমন জায়গায় যায়, দেখা গিয়েছিল, সত্তরের বেশি বয়স অথবা কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া তিন প্রার্থী সৌগত, কল্যাণ এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে প্রচারেই যাননি অভিষেক। তাঁর যুক্তি ছিল, দলের তো অনেক কাজ রয়েছে, কেন সবাইকে ভোটে লড়তে হবে। আর একটা বয়সের পর যদি ভোটে লড়া কেউ না থামান, তা হলে নতুনেরা সুযোগ পাবেন কী করে।
তবে বার বারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ‘ব্যতিক্রমীদের’ কথাও উল্লেখ করেছেন অভিষেক। এমনকি সেই তালিকায় নরেন্দ্র মোদীর নামও উল্লেখ করতে দ্বিধা বোধ করেননি তৃণমূলের নবীন সেনাপতি, আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া ‘মুখোমুখি’ ভিডিয়ো সাক্ষাৎকারে।